তারপরও আশাবাদী মুমিনুল

৩০, ৪০, ৩৫, ৬৫, ৩৫; বাংলাদেশের প্রথম ছয় ব্যাটসম্যানের পাঁচ জনের স্কোর এমন।

 
ওয়ানডে হলে এটা প্রশংসাযোগ্য ব্যাপার। সেখানে এই দশে মিলে ছোট ছোট কাজ করে একটা লড়াকু পুঁজি গড়া যায়। কিন্তু টেস্টে এটা রীতিমতো নিন্দাযোগ্য ব্যাপার। এই পাঁচ ব্যাটসম্যানই স্কোরগুলো করেছেন শতাধিক বল মোকাবেলা করে। তারপর কী করে প্রত্যেকেই মাঝারি এই স্কোরে আউট হয়ে গেলেন, এ নিয়ে গবেষণা চলতে পারে।
 
তবে দিনশেষে কথা বলতে এসে মুমিনুল হক বলছেন, এটা সে ফ একটা কাকতালীয় দিন। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন মানলেও তিনি বলছেন, এমন ব্যাটসম্যান আসলে তারা নন, ‘দুই টেস্ট আগেই তামিম ভাই ডাবল সেঞ্চুরি, সেঞ্চুরি করেছে; ইমরুল ভাই বড় ইনিংস খেলেছে। এই দুটো টেস্টে একটু এরকম হচ্ছে। হ্যাঁ, কায়েস ভাই আর সাকিব ভাই ছাড়া সবাই বাজে বলে আউট হয়েছে। উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছে, এটা সত্যি।’
 
মুমিনুল বারবার দায়টা নিজের কাঁধেও নিয়ে নিলেন। তিনি বলছেন, তিনি খুব বাজে সময়ে বাজে ভাবে আউট হয়েছেন। প্রিয় কাট শট খেলতে গিয়েই পরপর দুটো ইনিংসে আউট হওয়া নিয়ে একটু দুশ্চিন্তাও আছে তার, ‘আসলে আমার তো কাট থেকেই বেশি রান আসে। তাই কাট করার কাছাকাছি বল পেলেও ব্যাট চালানো হয়ে যায়। এটা নিয়ে আরেকটু সতর্ক হতে হবে। আমি বাজে আউট হয়েছি; এটা বলতে পারি।’
 
দিনশেষে কারণ যাই হোক, মুমিনুল এটা মানছেন যে, রানটা অনেক কম করতে পেরেছেন তারা। এই রান নিয়ে লড়াই করাটা কঠিনই হবে, ‘আমার মনে হয় অনেক কম হয়ে গেছে। একটা টেস্টে ৩৫০ কিংবা ৪০০ রানের বেশি হলে ভাল হয়। তখন বোলাররাও ভাল মত বোলিং করতে পারে। রানটা কম হয়ে গেছে। আমাদের রান অনেক কম হয়েছে। তখন সুযোগটা আর থাকবে না এটাই স্বাভাবিক।’
 
এই কম রানের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকান বোলারদেরও কৃতিত্ব কম দেখছেন না বর্তমানে টেস্টে বাংলাদেশের সেরা এই ব্যাটসম্যান, ‘উইকেটের চেয়ে ওরা স্কোরি করার জন্য বল খুব কম দেয়। সব সময় স্ট্যাম্প টু স্ট্যাম্প বল করে। বিশ্বের সেরা ৩ জন পেস বোলার ওদের। আমার ব্যক্তিগত ভাবে খুব কষ্ট হয়েছে রান করতে। স্ট্যাম্প টু স্ট্যাম্প বল করে। ওদের স্পিন আক্রমণও ভাল আছে।’
 

তারপরও আশা হারাচ্ছেন না মুমিনুল। বাকী উইকেটগুলো নিয়ে তিনশ রানও পার করতে পারলে নিজেদের স্পিনারদের ওপর ভরসা রাখতে চান তিনি, ‘উইকেটে আমার মনে হয় কালকে কিংবা পরশু থেকে স্পিনাররা ভাল হেল্প পাবে। এখন উইকেট আছে ৩টি। আমরা চেষ্টা করব যদি ৩০০ করা যায়। তাহলে আমার মনে হয় এটা ভাল স্কোর; যদি আমরা ভাল জায়গায় বোলিং করতে পারি। আমি মনে করি ৩০০ করা সম্ভব। নাসির যদি ভাল খেলতে পারে ইনশাল্লাহ।’