ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার জিকো ফিফার সভাপতি নির্বাচনে তার দেশের ফুটবল কনফেডারেশনের সমর্থন পেয়েছেন। জিকো নিজেই গত বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানান।
জিকোর প্রার্থীতা ঘোষণায় ফিফা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যা দাড়াল তিনজন। অপর দুজন হলেন উয়েফা সভাপতি ফ্রান্সের সাবেক অধিনায়ক মিশেল প্লাতিনি ও গেল নির্বাচনে সেপ ব্ল্যাটারের কাছে পরাস্ত জর্ডানের প্রিন্স আলি বিন আল-হুসেইন। এছাড়াও নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন লাইবেরিয়ার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুসা বিলিতি, দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যবসায়ী ও সেদেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি চুং মং-জুন।
জিকোর জন্য ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন(সিবিএফ) সমর্থনটি প্রতীকি ও গুরুত্বপূর্ণ হলেও সংস্থাটির শর্ত হলো ৬২ বছর বয়সী সাবেক ফুটবলারটিকে আরো চারটি দেশের সমর্থন জোগাড় করতে হবে। ফিফা সভাপতি পদে নির্বাচন করতে হলে অবশ্যই একজন প্রার্থীর পাঁচটি দেশের ফুটবল কর্তৃপক্ষের সমর্থন থাকতে হবে। এরপর নির্বাচনের চার মাস আগে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে মনোনয়ন জমা দিতে হবে তাদের।
বর্তমান সভাপতি ব্লাটার সংস্থাটিতে দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে জুনের প্রথমদিকে ফিফা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। এরপর ২০ জুলাই ফিফার পক্ষ থেকে জানানো হয় আগামী বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি সুইজারল্যান্ডের জুরিখে বিশেষ অধিবেশনে ফুটবলের বিশ্ব সংস্থাটির সভাপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
জিকো বৃহস্পতিবার রিও দে জেনিরোতে সিবিএফের প্রধান কার্যালয়ে সভাপতি মার্কো পোলো দেল নেরোর সঙ্গে সাক্ষাতের পর বলেন, ‘ব্রাজিলীয় হিসেবে আমার দেশের ফুটবল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে শোনা ছাড়া আমি তো শুরু করতে পারিনা। জাতীয় দলের হয়ে আমি ১০ বছর খেলেছি এবং সবসময় ব্রাজিলের মর্যাদা রাখার চেস্টা করেছি। সে জন্যই আমি নিজের দেশের পক্ষ থেকে এ সমর্থন চেয়েছি।’
পরে এক বিবৃতিতে সিবিএফ প্রধান বলেন, ‘ফিফা নির্বাচনে প্রার্থিতার ক্ষেত্রে জিকোর প্রতি আমাদের সমর্থন আছে। সে যদি আরও চারটি সই পায় তাহলে সিবিএফ তাকে সমর্থন করবে।”
সেলেচাওদের হয়ে জিকো ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৬ সালের মধ্যে ৭১টি ম্যাচ খেলে ৪৮ গোল করেন। তবে ক্লাব ক্যারিয়ারের অধিকাংশ সময়ই কাটান ফ্ল্যামেঙ্গোর সাথে। এছাড়াও ১৯৯৯ সাল থেকে কাজ করছেন কোচ হিসেবে। এ সময়ে ফেনেরবাখ ও অলিম্পিয়াকোস ছাড়াও জাপান ও ইরাকের কোচ ছিলেন তিনি। বর্তমানে তিনি ইন্ডিয়ান সুপার লিগের দল এফসি গোয়া’র কোচ হিসেবে কাজ করছেন।