মাতৃদুগ্ধদান কক্ষ ও শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপনে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

শতভাগ কর্মজীবী মা যাতে কর্মক্ষেত্রে শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়াতে সমর্থ হন তা নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা, কলকারখানা, শপিংমল, পেশাজীবী সংগঠন, ট্রেড ইউনিয়ন ও মানবাধিকার সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ’ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে এ আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী।

সুস্থ ও মেধাবী প্রজন্ম তৈরি করতে কর্মক্ষেত্রে ‘মাতৃদুগ্ধদান কক্ষ ও শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র’ স্থাপনে সকলে এগিয়ে আসবেন বলেও তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
শনিবার থেকে ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ’ শুরু হচ্ছে। সপ্তাহটির এবারের প্রতিপাদ্য- কাজের মাঝে শিশু করবে মায়ের দুধ পান, সবাই মিলে সবখানে করি সমাধান।

প্রধানমন্ত্রী বাণীতে বলেন, একজন মা যদি কর্মস্থলে শিশুকে তার চাহিদা অনুযায়ী বুকের দুধ ও ঘরের তৈরি বাড়তি খাবার খাওয়াতে পারেন তবে তার সুফল অনেক। সবচেয়ে বড় সুফল হচ্ছে শিশু সুস্থ থাকবে। এতে মা চিন্তামুক্ত থাকবেন কাজের প্রতি অধিক মনোযোগী হবেন। কর্মস্থলে মায়ের উপস্থিতির হার বৃদ্ধি পাবে। এরফলে উৎপাদনশীলতা বাড়বে বহুগুণ।

শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার মাতৃ ও শিশু পুষ্টি উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে গত সাড়ে ছয় বছরে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। মাতৃত্বকালীন ছুটি বেতনসহ ৬ মাসে উন্নীত করা হয়েছে। সরকারি বেসরকারি অফিসে ‘ব্রেস্টফিডিং কর্নার’ স্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়াও কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা তহবিল থেকে কর্মজীবী মায়েদের ভাতা দেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাতৃদুগ্ধ ও ঘরের তৈরি পরিপূরক কার্যক্রমকে জোরদার করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মাতৃদুগ্ধ বিকল্প শিশুখাদ্য এবং বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশুর বাড়তি খাদ্য ও এর ব্যবহারের সরঞ্জামাদি (বিপণন নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ প্রণয়ন করেছি। দেশের সকল হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে শিশুবান্ধব হিসেবে পরিণত করার জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’ তিনি বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০১৫-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।