আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবন যাপন করছেন সেন্টমার্টিন ও শাহপরী দ্বীপের প্রায় ৩০ হাজার শরণহারা মানুষ। ঘুর্ণিঝড় ‘কোমনের’ আঘাতে এ দুই দ্বীপের আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থারত মানুষগুলো খাবার সঙ্কটে দিনাতিপাত করছে।
শুক্রবার শাহপরীর দ্বীপ গিয়ে দেখা গেছে, এ দ্বীপের বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে টেকনাফের দিকে চলে যাচ্ছে।
শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিত পাড়ার বাসিন্দা রহিমা বেগম (৪০) হয়ে বলেন, ‘এক দিকে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড়ে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এক মাত্র আশ্রয় হারিয়ে ছেলে মেয়েদের নিয়ে কোথায় যাব চিন্তিত হয়ে পড়েছি। কি আর করব টেকনাফের দিকে চলে যাচ্ছি। তাছাড়া পূর্ণিমার জোয়ারে পানি প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত দুদিনে শতাধিক পরিবার শাহপরীরদ্বীপ ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।’IMG0
শাহপরীরদ্বীপ উত্তর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে শিশু, নারীসহ প্রায় তিন শতাধিক লোকজনকে গাদাগাদি করে বসে থাকতে দেখা গেছে।
শাহপরীরদ্বীপ উত্তর পাড়া গ্রামের বেগম বাহার (৬৫) বলেন, ‘আমাদের দেখার মত কেউ নেই। গত তিনদিন ধরে এখানে পড়ে আছি। এমনকি কোন জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারাও ‘মরে গেছি নাকি বেচেঁ আছি’ দেখার জন্য আসেনি। তারা শুধু নির্বাচনের সময় হলে আমাদের কাছে ভোট ভিক্ষা খুঁজতে আসে। ভোট গেলে আর আসে না।’
ওই এলাকার আরেক বাসিন্দা সমিরা বেগম বলেন, ‘সমুদ্র পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় স্বামী নুর বশরকে হারিয়েছি। এখন একমাত্র থাকার ঘরটিও বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এক মেয়ে ও তিন ছেলেকে নিয়ে কোথায় যাব।’
এ সময় তিনি সরকারিভাবে তাদের ভেঙ্গে যাওয়া ঘরবাড়ি মেরামত করে দেওয়ার দাবি জানান।