রাজশাহীর গোদাগাড়ী ৩১ শয্যা হাসপাতালে জীবিত এক রোগীকে মৃত ঘোষণা করেছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। পারুল বেগম (৪০) নামের ওই রোগীকে মৃত ভেবে চিকিৎসা না দিয়েই বাসায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাসায় নেয়ার পর পারুল বেগম ফের নড়েচড়ে উঠে। তবে এবার হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
জানা গেছে, পারুল বেগম গোদাগাড়ী পৌর এলাকার মাদারপুর গ্রামের আবদুল বারীর স্ত্রী। শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে তিনি উচ্চ রক্তচাপজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনেরা তাকে ওই হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শর্মিলা শর্মা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনেরা তাকে বাসায় ফেরত নিয়ে যান। চারদিকে তখন কান্নার রোল। এ সময় হঠাৎ পারুল বেগম নড়েচড়ে ওঠেন। শুধু তাই নয়, ওই সময় তিনি তার স্বামীর হাত ধরে ক্ষমাও চান। এ সময় দমকল বাহিনীর একটি গাড়িতে করে স্বজনেরা তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে রাজশাহীর কাশিয়াডাঙা এলাকায় পারুল বেগম মারা যান।
স্বামী আবদুল বারীর অভিযোগ, চিকিৎসকদের অদক্ষতার কারণে বিনা চিকিৎসায় তার স্ত্রী মারা গেছেন। তিনি ওই চিকিৎসকের বিচার দাবি করেন।
গোদাগাড়ী ৩১ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শারমিন জাহান মাওলা বলেন, ‘পারুল বেগমকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল বলে হাসপাতালের খাতায় লেখা রয়েছে। সেখানে স্বাক্ষর করেছেন তখনকার কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শর্মিলা শর্মা।’
রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. আবদুস সোবহান জানান, বিষয়টি তিনি জানেন না। তবে ওই রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করা হলে বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন।