পরবর্তী সুপার পাওয়ার হওয়ার সুযোগ হারিয়েছে ভারত

বিশ্বের পরবর্তী ক্ষমতাধর বা সুপার পাওয়ার হওয়ার যে সম্ভাবনা ছিল তা থেকে হোঁচট খেয়েছে দেশটি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা-দ্বন্দ্বের কারণেই এই পরিস্থিতি হয়েছে। অথচ ভারতের পরবর্তী সুপার পাওয়ার হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা ছিল। গত বৃহস্পতিবার ফোর্বস ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ডগ ব্যান্ডোর লেখা এক নিবন্ধে এ কথা বলা হয়েছে।

 
নিবন্ধে বলা হয়, ক্ষমতায় আসার আগে প্রধানমন্ত্রী অনেক স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। কিন্তু ভারতের নাগরিকদের সেই স্বপ্ন এখন অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। মোদী সরকার যে দিন দিন দুর্বল হচ্ছে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে, গত ফেব্রুয়ারিতে দুর্নীতিবিরোধী একটি দলের বিরুদ্ধে ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে হেরে যাওয়া। মোদী হয়তো মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে বিশ্বাস করেন না। তিনি মুক্ত বাজারের চেয়ে বরং ব্যবসাকেই গুরুত্ব দেন বেশি। তিনি আগে ছোট আকৃতির সরকারের প্রশংসা করতেন। কিন্তু তার সরকারে আকৃতি সেইভাবে তিনি বজায় রাখতে পারেননি। মোদী সরকার এই বলে উল্লাস করছে যে, তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। তবে বর্তমানে সামান্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে যে, ভারত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিক দিয়ে চীনকে অতিক্রম করতে পারে। এই নয় যে দিল্লি কিছুই করেনি। কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হয়েছে। কিন্তু সরকারের সফলতা ঢাকা পড়ছে তাদের কিছু ব্যর্থতার কারণে।
 

মোদী সরকারের আমলে দেশে সামপ্রদায়িক হানাহানি বেড়েছে। সংখ্যালঘু নাগরিকদের উপর বিভিন্ন সময় হামলা হচ্ছে। তাদের নানাভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। তারা এখন আতঙ্কে আছে। মার্কিন সরকারের প্রতিবেদনেও ধর্মীয় সংঘাতের বিষয়টি উঠে এসেছে। এর মানে এই নয় যে, মোদী সরকার ধর্মীয় সংঘাতে উস্কানি দিচ্ছেন। যেসব হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো এসব করছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ার কারণেই এসব সংঘাত বাড়ছে। এর ফলে অনেক বিনিয়োগকারীও অন্যত্র চলে যাচ্ছে। অথচ মোদী সবসময়ই বিদেশিদের তার দেশে বিনিয়োগের আহবান জানিয়ে আসছেন।