দীর্ঘ অপেক্ষার পর ছিটমহলবাসী তাদের নিজ জাতিসত্তার স্বীকৃতি পাওয়ায় তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। গতকাল শুক্রবার পৃথক পৃথক বার্তায় তারা এই অভিনন্দন জানান।
রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, এক অভিনন্দন বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেছেন, দীর্ঘ ৬৮ বছরের অমীমাংসিত স্থল সীমানা জটিলতা নিরসনের পর ছিটমহল বিনিময় দুই-দেশের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত। রাষ্ট্রপতি এ উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
এদিকে গতকাল রাতে এক অভিনন্দন বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ৬৮ বছর পর ছিটমহলের অধিবাসীরা তাদের পরিচয়, নির্দিষ্ট ভূখন্ডে বসবাসের সুযোগ এবং প্রিয় মাতৃভূমির জাতীয় পতাকা ও মানচিত্র পেয়েছেন যা অত্যন্ত আনন্দের। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশের অন্যান্য নাগরিকদের সঙ্গে এখন আর ছিটমহলবাসীর কোনো পার্থক্য নেই। তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে যে ধরনের প্রকল্প নেয়া দরকার সরকার সব রকমের ব্যবস্থাই করবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।
গতকাল রাত ১২টা ১ মিনিটে মোমবাতি জ্বালিয়ে ছিটমহলবাসীরা তাদের স্বাধীনতার উত্সব পালন করেন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গতকাল ছিটমহলগুলো বিনিময় হয়। বাংলাদেশ ১১১টি ছিটমহল এবং ভারত ৫১টি ছিটমহল পায়। জ্বালানো হয় মশাল এবং ফুটানো হয় আতশবাজিও। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৪ বছর এবং ভারতের স্বাধীনতার ৬৮ বছর পর স্বাধীনতা স্বাদ পেল ছিটমহলবাসী, যাদের এখন আর ছিটমহলবাসী বলা যাবে না। তারা দুই দেশের কোনো না কোনো গ্রামের বাসিন্দা হবেন। ছিটমহলের বাসিন্দারা কৃষিকাজের উপরেই নির্ভরশীল। বেশিরভাগই পড়াশোনা শেখার সুযোগ পাননি। গরিব মানুষের বাসই এখানে বেশি। তবুও গতকাল তাদের আনন্দের কমতি ছিল না।