জেমস অ্যান্ডারসন-স্টিফেন ফিনের পেস তাণ্ডবে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং অর্ডার গুঁড়িয়ে দেয়ার পর তৃতীয় দিনের শেষ সেশনের আগেই বাকি কাজটা সেরে নিল ইংল্যান্ড। এজবাস্টনে গতকাল সফরকারীদের আট উইকেট হারিয়ে পাঁচ ম্যাচ অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ড এগিয়ে গেল ২-১ ব্যবধানে।
দ্বিতীয় দিনেই সাত উইকেট হারিয়ে ফেলা অস্ট্রেলিয়া তৃতীয় দিনে ভালোই লড়াই করে টেল এন্ডারদের ব্যাটে। ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা পিটার নেভিলের নেতৃত্বে ইংলিশদের প্রথম সেশনের প্রায় পুরোটা ফিল্ডিং করতে বাধ্য করে তারা। নেভিল ৫৯ রানে ফিরে গেলেও অন্য প্রান্ত ধরে রাখেন মিচেল স্টার্ক। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ৫৮ রানে স্টার্ক আউট হলে ২৬৫ রানে দ্বিতীয় ইনিংস শেষ করে অজিরা। জয়ের জন্য ইংলিশদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১২১ রান।
শুরুতেই স্টার্ক অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুককে ফিরিয়ে দিলেও পাল্টা আক্রমণ চালাতে থাকেন ইয়ান বেল। বাজে ফর্মের জন্য তীব্র সমালোচনায় থাকা দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানটি রান তুলতে থাকেন বলের সাথে পাল্লা দিয়ে। আট বাউন্ডারিতে ৬৮ বলে অর্ধশতকে পৌঁছান বেল। প্রথম ইনিংসেও অর্ধশতক হাঁকানো বেল দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত থাকেন ৬৫ রানে। জো রুট অপরাজিত থাকেন ৩৮ রানে। মাত্র আগের টেস্টেই ৪০৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হারা ইংলিশরা এই টেস্টে ঘুরে দাঁড়ায় জেমস অ্যান্ডারসনের হাত ধরে। প্রথম দিন এই পেসারের পেস আর সুইংয়ে নাকাল হয়ে অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে যায় মাত্র ১৩৬ রানে। অজিদের লড়াইয়ে ফেরান তাদের বোলাররা। স্টার্ক-জনসনদের তোপে খুব বেশি এগোতে পারেনি স্বাগতিকরাও। তারা সংগ্রহ করে ২৮১। ১৪৫ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের শেষ সেশনে অ্যান্ডারসন চোটের কারণে টেস্ট থেকে ছিটকে পড়লে আক্রমণের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন ফিন। গতকালই পাঁচ উইকেট পাওয়া ফিন কাল ফেরান নেভিলকেও। ম্যাচ শেষ করেন ক্যারিয়ার সেরা ৭৯ রানে ছয় উইকেট নিয়ে। কার্ডিফের প্রথম টেস্টে ১৬৯ রানে জিতে এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। পরের টেস্টে লর্ডসে ৪০৫ রানে জিতে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। নটিংহ্যামে ছয় আগস্ট শুরু হবে চতুর্থ টেস্ট।