অবিরাম বর্ষণে পাহাড় ধসে বান্দরবানের লামা উপজেলায় একই পরিবারের ৬ জন নিহত হয়েছে। গত শুক্রবার মধ্যরাতে উপজেলা সদরের হাসপাতাল পাড়া এলাকায় এ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এসময় আরো চারটি বাড়ি ধসের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছে ১৬ জন।
নিহতরা হলেন:পরিবারের গৃহকর্তা মো. বশির উদ্দিন (৫৫), তার মেয়ে আমেনা বেগম (৩০) ও রোজিনা আক্তার (৩২), ছেলে সাগর বাদশা ওরফে পুতু (১৪), নাতি সাজ্জাদ হোসেন (৫) ও নাতনি ফাতেমা আক্তার (৮)। এদিকে, বশির উদ্দিনের ছেলে আরাফাত হোসেন মারা গেছে বলে প্রথমে খবর ছড়িয়ে পড়লেও পরে জানা গেছে তিনি মারা যাননি। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চকরিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালেদ মাহমুদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
খবর পেয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, লামা পৌরসভা, লামা থানা পুলিশ, ৩৩ আনসার ব্যাটালিয়ন ও স্থানীয় জনসাধারণ উদ্ধার তত্পরতায় অংশ নেয়।
নিহতদের দাফনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনপ্রতি ২৫ হাজার, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ১০ হাজার, জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। সেনাবাহিনী কর্তৃপক্ষ দিয়েছে ১৫ হাজার টাকা।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, বান্দরবান পুলিশ সুপার, লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালেদ মাহমুদ, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ ইসমাইল, লামা পৌরসভা মেয়র মো. আমির হোসেন, জেলা পরিষদ সদস্য কাজী মুজিবর রহমান, জহিরুল ইসলাম, ফাতেমা পারুল ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধার তত্পরতায় অংশগ্রহণ করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদ মাহমুদ আরো জানান, প্লাবিত এলাকার আশ্রয় কেন্দ্রে বন্যাদুর্গত লোকজন অবস্থান করছে। প্রবল বর্ষণের কারণে উপজেলার লামা পৌরসভার ২ নম্বর লামা সদর ইউনিয়ন, ফাইতং, রূপসীপাড়া ও আজিজনগর ফাসিয়াখালীর বহু কাঁচা ঘরবাড়ি বিধস্ত হয়েছে। লামা পৌরসভাসহ উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। অবিরাম বর্ষণে গত কয়েকদিনে দুই শতাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।