সেই সময়টায় তার মাঠে থাকার কথা ছিলো।
সবকিছু সমীকরণ মতো এগোলে এই সময়ে তার বোলিং করার কথা ছিলো দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে। হয়তো দক্ষিণ আফ্রিকার লেজটা গুঁড়িয়ে দিতে তখন আরেকটা আর্মার ছোঁড়ার পরিকল্পনা করতেন সাকিব আল হাসান।
অথচ সেই সময়ে, টেস্টের তৃতীয় দিন ভরদুপুরে সাকিব সম্প্রচারকারী চ্যানেলের মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়ালেন!
না, মার্ক ফন উইক হয়ে জাননি। খেলা ছেড়ে কমেন্ট্রি করতে বসেননি সাকিব আল হাসান। বৃষ্টিতে একেবারে অলস সময় কাটাতে কাটাতে ক্লান্ত সাকিবকে কিছু কথা বলতে ডেকেছিলো সম্প্রচারকারীরা। সেখানে বৃষ্টি, অবসর নিয়ে অনেক কথা হলো। তবে খেলা নিয়ে এর ফাঁকে কাজের একটা কথা বলে ফেললেন, বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের লম্বা ইনিংস দেখতে চান এই সাবেক অধিনায়ক ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। একেবারে নির্দিষ্ট করে বললেন, সেঞ্চুরি করতে হবে।
সবার আগে বৃষ্টিতে নিজেদের হতাশাটা আরো একবার মুখ ফুটে বলতে হলো সাকিবকে। তবে বললেন যে, বৃষ্টি সত্ত্বেও তারা ফোকাস থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছেন, ‘হ্যাঁ; এটা হতাশাজনক। কিন্তু আমাদের হাতে কিছুই নেই এবং এখানে আমাদের কিছু্ করার নেই। আমাদের দরকার ফোকাসড থাকা, যখনই খেলা হবে তখন ভালো শুরু করা।’ খেলা শুরু হলে ভালো ফলের পথে যেতে কী করতে হবে, তাও বাতলালেন এই অলরাউন্ডার, ‘আমাদের হাতে দুই উইকেট আছে। আশাকরি আমরা আরো কিছু রান পাবো এবং পরে তাদের কম রানে বেঁধে রাখবো।’
আর এমন অলস দিনে ফোকাসটা ধরে রাখাটা যে সোজা কথা নয়, তা মানলেন সাকিব। সে জন্য তারা যা করছেন, তাও জানালেন, ‘যার ইচ্ছা হচ্ছে জিম, রানিং করছে। বিশ্রামে আছে, সুইমিং করছে। যেটা তাদের কাছে স্বস্তিদায়ক মনে হচ্ছে। পরিবারকে সময় দিচ্ছে। এসবই আমরা করছি এই সময়ে নিজেদের সতেজ রাখতে। যখনই আমরা সুযোগ পাই, আমাদের নিশ্চিত করতে হবে ম্যাচে ফোকাস করছি।’
তবে এসবের মধ্যে সাকিবের একটা বড় আফসোস, নিজেরা কেউ বড় ইনিংস খেলতে না পারা। যদিও এমন সবাই কিছু কিছু রান করাকে ইতিবাক মনে করেন তিনি। তবে একজন দুজন বড় স্কোর করার যে বিকল্প নেই, তা পরিষ্কার বললেন, ‘যদি আপনি স্কোরবোর্ড দেখেন, আমাদের পাঁচ-ছয়জন শুরুটা ভালো করেছে। কিন্তু কাউকে বড় স্কোর করা উচিত। এটা হয়নি বলেই হতাশার। অন্যদিকে সবাই অবদান রাখছে, এটা ভালো দিক। আমরা আরো সেঞ্চুরি দেখতে চাই এবং যখন কেউ সেঞ্চুরি পাবে তখন দরকার বড় ইনিংস খেলা।’
তারপরও সাকিব আশাবাদী। এই উইকেটে যে রানই তারা করেছেন বা করবেন, সেটা যে নিতান্ত খারাপ নয়, তাই বোঝানোর চেষ্টা করলেন তিনি, ‘এখানে রান করা কঠিন কারণ বল ব্যাটে আসছে না। আপনি নিজের শট খেলতে পারবেন না। উইকেট পাওয়া কঠিন যদি, আপনি বল অনুযায়ী খেলেন এবং ভুল না করেন। উইকেটের আচরণ আমাদের প্রত্যাশামত হচ্ছে না। তাই এটা আরো কঠিন হবে যদি আজ বা কাল যখনই সুযোগ পাই। যখন আপনি এক বা দুটি উইকেট শুরুতে নিয়ে নিবেন, তখন এটা চাপ তৈরি করবে প্রতিপক্ষের উপর। বিশেষ করে এই উইকেটে এবং যদি স্পিনাররা প্রত্যাশামত কাজ করতে পারে আশা করি এটা খুব ভালো ম্যাচ হবে।’