‘ঘোষিত মুদ্রানীতি বেসরকারি খাত-বান্ধব নয়’

 
ঘোষিত মুদ্রানীতি বেসরকারিখাত বান্ধব নয় বলে মন্তব্য করেছে ঢাকা চেম্বার। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য মুদ্রানীতি ঘোষাণা করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় চেম্বারের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি ৬.২ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টকরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক গত মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। সার্বিকভাবে ঘোষিত মুদ্রানীতি বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে তেমন আকৃষ্ট করছে না। কিন্তু দেশের বেসরকারি খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।
  
বাংলাদেশের সরকারি ও বাণিজ্যিক ব্যাংক সমূহের ঋণের সুদের হার আমাদের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি অন্যান্য শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক নয়, যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক বেসরকারি খাতে ১৫ শতাংশ ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। অন্য দিকে, ঋণের সুদের উচ্চ হার, ব্যবসা পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রস্তাবিত নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের কারণে মুদ্রাস্ফীতিকে আরোও প্রভাবিত করার আশঙ্কা রয়েছে। আমাদের স্থানীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমূহের অব্যবস্থাপনা ও সক্ষমতার অভাবে বেসরকারিখাতের উদ্যোক্তাবৃন্দ বৈদেশিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে ঋণ গ্রহণে আগ্রহী হচ্ছে, যা আমাদের দেশীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে।
 
সদ্যসমাপ্ত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে আমদানির হার ১২ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে রপ্তানির প্রবৃদ্ধি মাত্র ৩ দশমিক ৩ ভাগ হারে বেড়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমানের ক্রমাগত ওঠা-নামার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বাড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রস্তাবিত মুদ্রানীতিতে ব্যাংকিং খাতের শ্রেণিভুক্ত ও খেলাপি ঋণ আদায় এবং তা সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট কোনো দিক-নির্দেশনা নেই।
 
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, দেশের উত্পাদনশীল খাতসমূহ কম সুদে ঋণ-সুবিধা পাবে কিন্তু আর্থিক খাত ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গগুলো যতক্ষণ পর্যন্ত স্থিতিশীল না হবে, আগামী ছয় মাসে এ ব্যবস্থার তেমন সুফল পাওয়া যাবে না।
 
ঢাকা চেম্বার মনে করে—২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ডাবল ডিজিটে উন্নীত করা এবং ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম-আয়ের দেশে পরিনত করার জন্য ৮ শতাংশ হারে জিডিপির প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শিল্পায়ন তরান্বিত করার পাশাপাশি আর্থিক ব্যবস্থায় আরো গতি সঞ্চার করতে হবে। এর পাশাপাশি সুদের হার কমানো এবং ব্যবসায় পরিচালন ব্যয় হ্রাসের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
 
ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক এ অর্থবছরে সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এরই মধ্যে ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের মাত্রারিক্ত ঋণ গ্রহণের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যা এ বছরের জুলাইর ২২ তারিখ পর্যন্ত ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা।
 
ঢাকা চেম্বার মনে করে—বিদ্যমান খেলাপি ঋণের বিষয়টি আমাদের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। তাই ডিসিসিআই আশা প্রকাশ করে—ব্যাংক ঋণের সুদের হার কামানো হলে, দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।