মেসির সমালোচনায় মানবাধিকার সংস্থা

 
 
কিছুদিন আগে গ্যাবন প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে সেখানে গিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন ফুটবলার লিওনেল মেসি। এই সফরে প্রথমেই পোশাক বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি। এবার তার দাতব্য কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিযোগ তুলেছে একটি মানবাধিকার সংস্থা।
 
মানবাধিকার সংস্থার সভাপতি থর হালভরসেন বলেছেন, প্রেসিডেন্ট আলি বঙ্গোর সঙ্গে সম্প্রীতি রেখে লিওনেল মেসি তার দাতব্য কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
 
তিনি বলেন, শিশু অধিকার নিয়ে মেসির ভূমিকা প্রশংসনীয়। ইউনিসেফের প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করেন তিনি। কিন্তু বঙ্গোর গ্যাবন সরকার শিশু হত্যার মতো বিষয়ে তদন্তে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
 
থর হালভরসেন বলেছেন, মেসির এই সফর ছিল বঙ্গো সরকারের একটি সুচিন্তিত চাল। ২০১৭ সালের আফ্রিকান ন্যাশনস কাপের আয়োজক হিসেবে নিজেদের বিজ্ঞাপন করিয়ে নিল তারা। এই প্র্রতিযোগিতার বিপুল ব্যয় বহন করতে তাঁদের কার্পণ্য নেই, অথচ দেশটির ২০ ভাগ লোকের দৈনিক আয় এখনো ২ ডলারেরও কম।
 
মানবাধিকার প্রধান নীতিনির্ধারক অ্যালেক্স গ্ল্যাডস্টেইনের ভাষ্য, এই ধরনের কিছুদিন আগেই জেনিফার লোপেজ, মারায়া ক্যারি এবং কেন ওয়েস্টকে অপমানের শিকার হতে হয়েছে। তবুও বঙ্গোর মতো শাসকের সঙ্গে নিজেকে জড়ানোর ঝুঁকি মেসি নিলেন কীভাবে? 
 
তিনি বলেন, মেসির যদি গ্যাবনের উন্নয়নের প্রতি বিন্দুমাত্র আগ্রহ থাকে তবে শাসকদের সঙ্গে উত্সবে না মাতাই ভালো। বরং দেশটির ঐসব মানুষ যারা নির্যাতনের শিকার, তাদের জন্য সহমর্মিতা জানানো উচিত। একই সঙ্গে শিশু নির্যাতন ও হত্যার বিষয়গুলো তদন্ত করতে রাষ্ট্রপক্ষকে চাপও দিতে পারেন তিনি।
 
বঙ্গো নিজে দাবি করেছেন, কয়েক বছর আগে বার্সেলোনাতে মেসির সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল। তখন তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। শুধু প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে তিনি গ্যাবন এসেছিলেন। 
 
গত ১৭ই জুলাই প্রথমবারের মতো গ্যাবন ঘুরতে যান বার্সেলোনা তারকা লিওনেল মেসি। ২০১৭ আফ্রিকান ন্যাশনস কাপের ফাইনালের স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করাই ছিল তার সফরের উদ্দেশ্য। সেই সঙ্গে একটি হাসপাতালও দেখে আসেন তিনি। বঙ্গো পরিবারের মালিকানাধীন একটি রেস্তোরাঁও ঘুরে এসেছিলেন মেসি। খবর: গোলডটকম।