এ যেন সত্যিকারের ‘বজরঙ্গি ভাইজান’!

 
 
কাল্পনিক কাহিনী নিয়ে 'বজরঙ্গি ভাইজান' চলচ্চিত্রটি নির্মিত হলেও বাস্তব জীবনে এরকম ঘটনার প্রমাণ মিলল। এমন অদ্ভুত ঘটনাই ঘটেছে এক ভারতীয় মেয়ের সঙ্গে।
 
ওয়ান ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বজরঙ্গি ভাইজান’র প্রিয় মুন্নি কথা বলতে পারত না। মায়ের সঙ্গে পাকিস্তান থেকে ভারতে এসে ফেরার পথে হারিয়ে গিয়েছিল। তবে এখানে কাহিনী উল্টো। এক ভারতীয় মেয়ে কোনোভাবে পাকিস্তানে পৌঁছে গিয়েছে। সে একইসঙ্গে মূক ও বধীর। বহু চেষ্টা করেও তাকে দেশে ফেরানো যায়নি। গত ১৩ বছর ধরে সে পাকিস্তানে রয়েছে। এখন তার বয়স ২৩ বছর। পাকিস্তানের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তত্ত্বাবধানে সে রয়েছে। তার নাম দেয়া হয়েছে গীতা।
 
জানা গেছে, প্রথমে মেয়েটিকে পাওয়ার পরে লাহোরে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপরে করাচিতে রয়েছে সেই মেয়েটি। কোনোভাবে দুই দেশের সীমান্ত পেরিয়ে সে পাকিস্তানে ঢুকে গিয়েছিল বলেই মনে করা হচ্ছে। শুনতে ও বলতে না পারার জন্য গীতাকে ভারতে ফেরানোর সব চেষ্টা বিফলে গিয়েছে।
 
কথা বলতে বা শুনতে না পারলেও ভারতের মানচিত্র দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছিল গীতা। প্রথমে ঝাড়খণ্ড রাজ্যের দিকে ইশারা করলেও পরে সে তেলেঙ্গানা রাজ্যকে দেখায়। আগের কোনোকিছুই সেভাবে তার থেকে জানা যায়নি। তবে গীতা ইশারায় জানিয়েছে তারা মোট সাতভাই ও চারবোন। কিছু হিন্দি ম্যাগাজিন দেখে কয়েকটি শব্দ বোঝাতে চাইলেও তাতে অস্পষ্টতা রয়েছে।
 
ভারতীয় দূতাবাস থেকে গীতার ছবি তুলে নিয়ে গেলেও আর কোনো খবর দেওয়া হয়নি। এক ভারতীয় সাংবাদিক গীতার সাক্ষাত্কার নিলেও তারপর আর কিছু জানা যায়নি। জানা গিয়েছে, সব চেষ্টা বিফলে যাওয়ায় গীতাকে ভারতে ফেরানোর জন্য এখন ফেসবুকে প্রচার শুরু হয়েছে। পাকিস্তানে হিন্দু ছেলে দেখে তার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে সংসার পাতার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছেন গীতা। ইশারায় বুঝিয়েছে বাড়ি না ফিরে কোনোভাবেই বিয়ে করবে না সে।
 
বজরঙ্গি ভাইজানের মতো কেউ পাকিস্তান থেকে ভারতে এসে গীতাকে তার পরিবারের সঙ্গে মিলিয়ে দিয়ে যাবেন, এমন অলৌকিক কিছু ঘটুক, এমনই চাইছেন পাকিস্তানে গীতার দেখভাল করা লোকজনেরা।