লোকবল সংকটে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত রোগী

শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

 

 

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা

শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে­ক্সে লোকবল সংকটে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। এছাড়াও রয়েছে নানা সমস্যা।

জানা গেছে, শ্যামনগর হাসপাতালে চিকিত্সকের পদের সংখ্যা ৩৩ হলেও আছেন মাত্র তিনজন। এদিকে অভ্যন্তরীণ ও বহির্বিভাগে নির্ধারিত কোনো ডাক্তার নেই। সেবিকা ২৫ জনের স্থলে আছেন ২৩ জন। তার মধ্যে দুজন প্রেষণে আছেন খুলনা সদর হাসপাতালে। ওয়ার্ড বয় তিনজনের স্থলে আছে একজন। অফিস সহায়ক পাঁচজনই প্রেষণে। ল্যাবরেটরি এটেনডেন্ট পদটি বরাবরই প্রেষণে, অপারেশন থিয়েটার বয় ও মালি পদটিও প্রেষণে আছে।

উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের আকলিমা, নাসরিন ও সুকজানসহ অনেকেই জানান, সকালে এসে দাঁড়িয়ে আছি। জানি না কখন ডাক্তারের দেখা পাব, এমন অভিযোগ অন্য রোগীদেরও। তারা আরও জানান, হাসপাতালে বিভিন্ন ধরনের চিকিত্সা সুবিধা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকার পরেও ডাক্তার না থাকায় রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে দ্বিগুণ ব্যয়ে চিকিত্সা সেবা নিতে হচ্ছে।

শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (টিএইচএ) ডা. ওমর ফারুক জানান, লোকবলের অভাবে সেবা দেওয়া কষ্টকর। তারপরও তিনজন ডাক্তার ও আনুষঙ্গিক জনবল নিয়ে চিকিত্সা সেবা দিতে যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি আরও জানান, হাসপাতালে গাইনি ও সিজার অপারেশন মেডিক্যাল কর্মকর্তাসহ দশজন ডাক্তার শীঘ্রই প্রয়োজন। ডাক্তার না থাকায় বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সার্বিক বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার রফিকুল ইসলাম বলেন, সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে তবে সময় লাগবে।

উলিপুরে জনবল সংকটে ইউনিয়ন

স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিত্সাসেবা ব্যাহত

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, উলিপুরে নেদারল্যান্ড সরকারের অনুদানে স্থাপিত তিনটি ইউনিয়ন ও পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জনবল সংকটের কারণে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। ফলে গ্রামীণ মা শিশু ও দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কোয়ার্টার, জায়গা-জমি ও রাস্তা দখল হলেও কর্তৃপক্ষ নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে। 

উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৬ সালে নেদারল্যান্ড সরকারের অনুদানে গ্রামীণ মা শিশু ও দরিদ্র মানুষের উন্নত স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্যে উপজেলার পাণ্ডুল, দলদলিয়া ও দুর্গাপুর ইউনিয়ন ও পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ করে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কেন্দ্রগুলো সঠিকভাবে পরিচালনার অভাবে চিকিত্সার যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে। আসবাবপত্র, দরজা-জানালা ভেঙে গেছে। পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, পানি, বিদ্যুতের সমস্যা ও নিয়মিত স্টাফ না থাকায় কোয়ার্টার ও আশপাশের জমি, রাস্তা দখল হয়ে গেছে। গাছপালা কেটে নিয়ে যাচ্ছে। পাণ্ডুল ইউনিয়ন ও পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্যকেদ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার, একজন এমএলএসএস ও একজন আয়া দিয়ে চলছে চিকিত্সা কার্যক্রম। গত ছয়মাস উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার হাবিবা আক্তার মাতৃত্বকালীন ছুটিতে ছিলেন। ওই সময় চিকিত্সাসেবা প্রায় বন্ধ ছিল বলে জানালেন এমএলএসএস শাহা আলম। হাবিবা আক্তার জানান, স্থানীয় ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম হাসপাতালের রাস্তা বন্ধ করে অবকাঠামো নির্মাণ করেছেন। তাছাড়া পানি, ল্যাট্রিন, আসবাবপত্র রোগীর বিছানা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চিকিত্সাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। সমস্যাগুলো বার বার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো ব্যবস্থা হচ্ছে না।

দুর্গাপুর ইউনিয়ন ও পরিবার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার মাহমুদা মণ্ডল জানান, তিনিসহ দুইজন পিয়ন আয়া দিয়ে কোনো রকমে চালাচ্ছেন চিকিত্সাসেবা। নানা সমস্যা ও প্রতিকূল পরিবেশে প্রতিদিন প্রায় দেড়শত রোগীকে চিকিত্সা দিতে হচ্ছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গা ইউপি চেয়ারম্যান দখল করে ভাড়া দিয়েছেন। কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। একই অবস্থা দলদলিয়া ইউনিয়ন ও প. প. স্বাস্থ্যকেন্দ্রের।            

পাণ্ডুল ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ আব্দুল জব্বার জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নাজুক পরিস্থিতির কারণে চিকিত্সাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। সমস্যাগুলো সমাধানে কর্তৃপক্ষের সাথে বহুবার যোগাযোগ করেছি কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ধীরে ধীরে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. সুভাষ চন্দ্র সরকার জানান, নেদারল্যান্ড সরকার কর্তৃক স্থাপিত ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনো পদ না থাকায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, ওই প্রজেক্টটি উঠে যাওয়ায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। তবে রাস্তা ও জমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।