টেস্টে আরো গুরুত্ব চান সিনিয়ররা

 
বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে দেশের ক্রিকেট প্রিয় মানুষের মতো জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটাররাও মুগ্ধ। তবে সাবেকরা সাম্প্রতিক এই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতার উপর বেশি জোর দিয়েছেন। ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে নিজের প্রমাণ করার পর এখন টেস্টের উপর বেশি গুরুত্ব দেয়ার ব্যাপারে মত দিয়েছেন সাবেকরা।
 
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক, বর্তমান ম্যাচ রেফারি ও ক্রিকেট বিশ্লেষক রকিবুল হাসান বলেন, বাংলাদেশের পারফরম্যান্স তাদের মুগ্ধ করেছে, ‘সম্প্রতি জিম্বাবুয়ে, পাকিস্তান, ভারত ও সদ্য শেষ হওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হোম সিরিজে বাংলাদেশ ওয়ানডেতে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। পাকিস্তানকে ওয়ানডেতে  হোয়াইট ওয়াশ করা, ভারত এবং আফ্রিকার মতো ক্রিকেট পরাশক্তি দলের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয় এটা অনেক বড় অর্জন। তবে টেস্টেও খারাপ করেনি।’
 
টেস্টে আরও উন্নতির দিকে নজর দেওয়ার সুপারিশ করলেন এই ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ, ‘সর্বশেষ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই টেস্টে বাংলাদেশ ভালো খেলারই আভাস দিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য বৃষ্টির কারণে দুই টেস্টে পাঁচ দিন খেলা হয়নি। বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেটে ইদানিং ভালো ক্রিকেট খেলছে। ওয়ানডেতে আমারা যে অবস্থায় আছি তা ঠিক আছে। আমাদের এখন টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে কাজ করতে হবে। টেস্টের দিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত। এজন্য আমাদের লংগার ভার্সন ক্রিকেটের উপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এই ফর্মেটের ক্রিকেটটাকে ধারাবাহিক করতে হবে। টেস্টে আমাদের ব্যাটিংয় নিয়ে আরো বেশি কাজ করতে হবে।’
 
তিনি মনে করেন, অস্ট্রেলিয়া সফরের আগেই বিসিএল আয়োজনের পরিকল্পনা করে সঠিক পথে আছে বিসিবি, ‘বিসিবি একটা ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়াকে দুই টেস্ট খেলানেরা জন্য বাংলাদেশে নিয়ে আসছে। তার আগে বিসিএলটাকে শুরু করার সিদ্ধান্তটা বিসিবের সেরা সিদ্ধান্ত। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে বিসিএল হলে ক্রিকেটারদের জন্য অনেক ভালো হবে। এটার মাধ্যমে ক্রিকেটাররা নিজেদের প্রস্তুতি সেরে নিতে পারবে এবং সিরিজ শুরু আগে নিজেদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস পাবেন।’
 
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক শফিকুল হক হীরা বলেন, ‘গত এক বছরে বিশ্ব ক্রিকেটে যদি কোন দল ভালো করে থাকে, তাহলে সেটা বাংলাদেশ দল। আমাদের জাতীয় দল ওয়ানডেতে হোম সিরিজে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইট ওয়াশ, পাকিস্তানকে হোয়াইট ওয়াশ করেছে, ভারত এবং আফ্রিকার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে। শুধু তাই নয় আমাদের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলও ভালো করছে। আফ্রিকার বিপক্ষে হোম সিরিজে ৬-১ এবং আফ্রিকা সফরে ৫-২ ব্যবধানে হারিয়েছে। সবমিলিয়ে আমি বলবো বাংলাদেশ এখন ক্রিকেটে অনেক উন্নতি করেছে।’
 
তবে এই সাবেক অধিনায়কও বললেন, টেস্টে আরও ফোকাসটা বাড়ানোর কথা, ‘সেটা শুধু ওয়ানডেতেই নয়, টেস্টেও উন্নতি করেছে। তবে টেস্টে আরো বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত। কারণ টেস্ট ক্রিকেটের উপরই অনেক কিছু নির্ভর করে। টেস্টে ভালো করতে হলে আমাদেরকে আমাদের লংগার ভার্সন ক্রিকেটকে গুরুত্ব দিতে হবে। এই ফর্মেটের ক্রিকেট যাতে ধারাবাহিক হয় সেজন্য আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।’ 
 
জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার বর্তমান ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার আতাহার আলী খান বলেন, ‘বাংলাদেশ দল এখন জয়কে অভ্যাসে পরিণত করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে হেরে গিয়ে ব্যকফুটে থেকেও পরের দুই ম্যাচে ভালোভাবে কামব্যাক করে ম্যাচ জিতে ট্রফি নিশ্চিত করেছে। আফ্রিকার মতো দলের বিপক্ষে এভাবে কামব্যাক খুব কম দলই করতে  পেরেছে। ওয়াডের পাশাপাশি টেস্টেও বাংলাদেশ সাম্প্রতিক ভালো করছে। সর্বশেষ ভারতের বিপক্ষে এক টেস্টে ড্র, আফ্রিকার বিপক্ষে দুই টেস্ট ড্র।’
 
টেস্টের ব্যাপারে আতহার বলছিলেন,  ‘যদিও এই তিনটা টেস্ট বৃষ্টির কবলে পড়ে ড্র হয়েছে তবে আমরা কিন্তু এই ম্যাচগুলোতে ভালো করেছি। বৃষ্টি না হলে এই টেস্টগুলোতে আমাদের আরো ভালো করার সুযোগ ছিল। সামনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টের হোম সিরিজ আছে। এই টেস্টে সিরিজে ভালো পারফর্ম করে আমরা বিশ্বকে দেখিয়ে দিতে চাই টেস্টেও আমরা ভালো দল। টেস্টে ভালো করার জন্য আমাদের উইকেটের উপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমও টেস্টের উইকেট নিয়ে কথা বলেছেন। টেস্টের উইকেট সাধারণত স্লো হয়, যেটা পেস বোলারদের জন্য ভালো, এখানে রান করতে ব্যাটসম্যানদের অনেক কষ্ট করতে হয়। টেস্ট ম্যাচগুলো যেসব উইকেটে হয়, আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচ এই উইকেট হলে খেলোয়াড়রা আগে থেকেই উইকেট সম্পর্কে ধারণা পাবে। আমাদের উদীয়মান ক্রিকেটাররা যদি স্লো পিসে আগে থেকেই খেলে অভ্যস্ত হয় তাহেল তারা জাতীয় দলে এসে আরো ভালো করতে পারবে। তখন ব্যাটসম্যানরা জানবে টেস্টে রান করতে হলে অনেক কষ্ট করতে হবে।’