শাহরিয়ার কবিরের মা কাজল বেগমকে ফেলে অন্যত্র বিয়ে করে চলে গেছেন বাবা সৈয়দ কায়েস। মনের ভেতরে অনেক দুঃখ। নিজে বড় হতে চান। ফুটবলার হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান শাহরিয়ার। ফুটবল হতে পারলে নিজের স্বপ্নটা যেমন বড় হবে তেমনি মায়ের মুখে হাসি ফোটাতেও পারবেন। স্বপ্ন নিয়ে ছোটদের জাতীয় ফুটবল দলে জায়গা করে নিয়েছেন কিশোরগঞ্জ করিমগঞ্জের আমলীতলার ক্ষুদে ফুটবলার শাহরিয়ার কবির।
মেহেরাব হোসেন অপুর বাবা জাহাঙ্গীর আলমের স্বপ্ন ছোট ছেলে ফুটবলার হবে। বাবা কোরিয়ান প্রতিষ্ঠানের জেনারেল ম্যানেজার। তার প্রতিষ্ঠানের লোকজনও দারুণ খুশি সহকর্মীর ছেলে কোরিয়া যাচ্ছে। শাহরিয়ার কবির, মেহেরাব হোসেন অপুর মতো ১৬ জন ফুটবলার আজ দক্ষিণ কোরিয়া যাচ্ছেন ফুটবল উৎসবে অংশগ্রহণ করতে। কোরিয়ার রাজধানী সিউলে ৭-১০ আগস্ট (অনূর্ধ্ব-১২) এশিয়ান ফুটবল ফেস্টিভালে অংশগ্রহণ করবে বাংলাদেশ।
১৪টি দেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে কোরিয়া। উৎসব হলেও বাংলাদেশের লক্ষ্য হচ্ছে এই উৎসবকে সামনে রেখে বাছাই করা খেলোয়াড়দের স্থায়িভাবে ফুটবলে রেখে দেয়ার পরিকল্পনা। বাফুফে বলেছে খেলোয়াড়রা ফিরে আসলে তাদের সিলেটে বিকেএসপিতে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে খেলোয়াড়রা সিলেটে থাকলে তাদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করবে। সেটা নিশ্চিত না হলে অভিভাবকরাও তাদের সন্তান ছাড়বে না। হাসানুজ্জামান খান বাবলু বললেন,‘আমরা এই খেলোয়াড়দের বাছাই প্রক্রিয়ার সাথে ছিলাম। এতো প্রতিভা কল্পনা করা যায় না। ধরে রাখতে পারলে জাতীয় দলে সুযোগ পাবেই, আমি বলতে পারি।’
জুনিয়র দলের দলনেতা জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক (১৯৯৩) আরিফ হোসেন মুন বললেন,‘আমর জোর দাবী থাকবে কোরিয়া থেকে দল ফেরার পর খেলোয়াড়রা যেন হারিয়ে না যায়।’
জুনিয়র দলের ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান বাদল রায় বললেন,‘কোরিয়া যাচ্ছে খেলোয়াড়রা। আমরা তাদের কাছ থেকে রেজাল্ট আশা করি না। যেন ভালো খেলতে পারে সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান বললেনে ভিন্ন কথা। অধিনায়ক জিততে চান। বলছিলেন,‘আমরা সম্মান নিয়ে ফিরতে চাই।’ বাবলু ক্ষুদে ফুটবলারদের অভয় দিয়ে বললেন,‘বুকে বাংলাদেশের পতাকা আছে। মনে রেখো তোমরাও মানুষ। যারা খেলতে আসবে তারাও মানুষ। খেলার মাঠে ছেড়ে কথা বলবে না। শৃঙ্খলা বজায় রেখে লড়াই করবে।’ খেলোয়াড়রাও মাথা ঝাঁকিয়ে ছাত্রের মতোই বললেন,‘আচ্ছা ঠিক আছে।
দুই শত ফুটবলার থেকে বাছাই করে ১৬ জন চূড়ান্ত করা হয়েছে। যারা বুধবার দুপুরে দক্ষিণ কোরিয়া যাবেন। খেলা হবে ১৫ মিনিট করে। ফুটবল মাঠের অর্ধেকটা মাঠে খেলা হবে। এই দলটাকে ঘষে মেজে গড়ে তোলার দায়িত্ব ছিল জাতীয় দলের উইংব্যাক পারভেজ বাবুর উপর।
বাফুফে ভবনে বৃহস্পতিবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোচ পারভেজ বাবু বললেন,‘ফুটবল শৈলী ছাড়াও ফুটবলার হওয়ার ক্ষেত্রে যে গুনগুলো থাকা প্রয়োজন আমি তাদের ভেতরে সেটা আনার চেষ্টা করেছি।’ দলের খেলোয়াড়রা হলেন, মিরাজ, রানা, রাসেদুল, তন্ময়, মেহেদী হাসান, শাহরিয়ার কবির, সাগর চন্দ্র, হীরা আহমেদ, রকিবুল হোসেন, মেহেরাব হোসেন অপি, রেজাউল করিম। দলে সাথে যাচ্ছেন ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মাসুক মিয়া। সফরের সব খরচ কোরিয়া পাঠিয়েছে। তারপর খেলোয়াড় বাছাইয়ে আট লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে বাদল রায় বলেন। অন্য দলগুলো হচ্ছে: আফগানিস্তান, কম্বোডিয়া, চীন, পূর্ব তিমুর, ভারত, লাওস, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, ফিলিস্তিন, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, কোরিয়া এবং বাংলাদেশ। ফিকশ্চার নির্ধারণ হয়নি।