জলবায়ু বদলের প্রভাব ঠেকাতে বৃহত্তম পরিকল্পনা ওবামার

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের এক পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ‘ক্লিন পাওয়ার প্লান’ নামের এই পরিকল্পনাকে তিনি দেশটির নেয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেছেন। নতুন এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনের হার এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, আগামী ডিসেম্বরে প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য জলবায়ু সম্মেলনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনা বৈশ্বিক জলবায়ু চুক্তি (ক্লাইমেট রেসকিউ প্যাক্ট) সম্পাদনের আশা জাগিয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা উন্নত দেশগুলোর জন্য এক ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

 
এই পরিকল্পনা ঘোষণাকালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, জলবায়ু ইস্যুতে নেয়া যুক্তরাষ্ট্রের এ? যাবত্ কালের সবচেয়ে বড় আর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পনের বছরে বায়ু ও সৌরশক্তি এবং নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারে জোর দেয়া হবে। তিনি বলেন, এই সব স্টান্ডার্ড স্থাপনের মাধ্যমে আমরা দেশকে একটি পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছি। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে আমাদের বিদ্যুত্ প্রকল্পগুলোতে কার্বন ডাই অক্সাইডের নির্গমন এক দশক আগের তুলনায় বত্রিশ শতাংশ কমে যাবে। অঙ্গরাজ্য, বিভিন্ন শহর ও বিদ্যুত্ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর এই স্টান্ডার্ড নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
 
ওবামা বলেন, বিদ্যুত্ প্রকল্পগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায় ক্ষতিকর কার্বন নিসঃরণের অন্যতম বড় উত্স। এখন পর্যন্ত এসব প্লান্ট থেকে কার্বন নিঃসরণের নির্দিষ্ট কোনো মাত্রা কেন্দ্রীয়ভাবে নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব অনুভব করা প্রথম প্রজন্ম এবং আমরাই এক্ষেত্রে কিছু করতে পারি।
 
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান রাজনীতিকেরা বলেছেন, এই পরিকল্পনায় দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তারা কংগ্রেসে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন। মার্কিন জ্বালানি শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা ওবামার এ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে লড়াই চালানোর অঙ্গীকার করে বলেছেন, এর মাধ্যমে ওবামা ‘কয়লার বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন।
 
তবে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির বিদ্যুত্ উত্পাদন প্রকল্পগুলো থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনের হার এক তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনার এই মার্কিন পরিকল্পনাকে ইতিমধ্যেই স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
 
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনা বৈশ্বিক জলবায়ু চুক্তি (ক্লাইমেট রেসকিউ প্যাক্ট) সম্পাদনের আশা জাগিয়েছে। ব্রিটেনের এনার্জি এন্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ ডিপার্টমেন্টের এক মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনা প্যারিসে একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী আইনি বাধ্যবাধকতার চুক্তির সুযোগ তৈরি করেছে। এর আগে গত মাসে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ৪৬ জাতির বৈঠকে বহুল প্রত্যাশিত এই চুক্তির ক্ষেত্রে তাত্পর্যপূর্ণ অগ্রগতির কথা জানানো হয়। ফ্রান্সের শীর্ষ জলবায়ু কূটনীতিক লরেন্স তুবিয়ানা জানান, ৪৬ দেশের মন্ত্রী ও শীর্ষ কর্মকর্তারা একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে কয়েকটি ইস্যুতে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। যেসব বিষয় নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে মতবিরোধ চলছিলো। তাদের এই ঐকমত্য থাকা জরুরি। একবার এই চুক্তি সম্পাদিত হলে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধিকারী গ্রিন হাউস গ্র্যাস নিঃসরণ বন্ধে দেশগুলো সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাবে।
 

আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর ফ্রান্সের রাজধানীতে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ সম্মেলনে চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এ চুক্তির উদ্দেশ্য হবে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস কমিয়ে আনা। সকলের ঐকমত্যে এই চুক্তি ২০২০ সাল থেকে কার্যকর হবে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী ১০ বছরে পুনরায় আলোচনার প্রয়োজন হবে না।