মাইকেল ক্লার্ক অবসর নেয়ার কথা চিন্তাও করছেন না। বরং বরাবরের মতোই লড়াই করে চেনাতে চান নিজেকে। সঙ্গে সিরিজে ফেরাতে চান তার দলকেও। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার ট্রেন্ট ব্রিজে চতুর্থ অ্যাশেজ টেস্টেই ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া অস্ট্রেলিয়া দলপতি। অন্যদিকে, ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ইংল্যান্ড শেষ টেস্টের আগেই নিশ্চিত করতে চায় সিরিজ।
চলতি সিরিজ তো বটেই, অ্যাশেজের পরও খেলা চালিয়ে যাবার কথা জানান ক্লার্ক। চলমান অ্যাশেজ সিরিজে ছয় ইনিংসে ১৯ এরও নীচে গড় নিয়ে মাত্র ৯৪ রান করার পরে ক্লার্কের উপর দল এবং দলের বাইরের চাপ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। অস্ট্রেলিয়ান গণমাধ্যমেও তাকে নিয়ে সমালোচনা চলছে। কোন কোন পত্রিকা তো বলেই দিয়েছে তার ক্যারিয়ার শেষের পথে। কিন্তু ২৮টি টেস্ট সেঞ্চুরির মালিক ৩৪ বছর বয়সী ক্লার্ক স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি কোথাও যাচ্ছেন না।
পাল্টা জবাব দিতেও সময় নেননি ক্লার্ক। দল এবং ব্যক্তিগত বাজে পারফরম্যান্সে এমন সমালোচনায় বিস্মিত নন বলে জানান তিনি। তবে তার বিস্ময় গণমাধ্যম তার অবসর নিয়ে হঠাৎ করেই সরগরম হওয়ায়।
সিডনি ডেইলি টেলিগ্রাফে লেখা এক কলামে ক্লার্ক বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে আমাকে নিয়ে যে সমালোচনা হচ্ছে তা নিয়ে আমার কোন আক্ষেপ নেই। আমি ভিন্ন কিছু আশাও করি না। বিশেষ করে আমি যেহেতু দলের অধিনায়ক আমাকে নিয়ে সমালোচনা হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমি শুনেছি কিছু কিছু পত্রিকায় লেখা হয়েছে আমার মধ্যে নাকি ভাল করার কোন আগ্রহ নেই। এই সিরিজের পরেই আমার অবসরে যাওয়া উচিত। এগুলো সম্পূর্ণ ভাবেই বানোয়াট কথা।’
ক্লার্ক আরো বলেছেন, আমার পারফরমেন্স নিয়ে মানুষ এখন যে কথাগুলো বলছে তা বলার আগে তাদের চিন্তা করা উচিত ছিল। অতীতে আমি দলের জন্য কি করেছি এবং আমার মধ্যে কি করার ক্ষমতা আছে। এখনো অনুশীলনে সবার আগে আমি আসি এবং সবার পরে মাঠ ছেড়ে যাই। তাই আমার মধ্যে ভাল করার আগ্রহ নেই একথা বলার কোন অবকাশ নেই। এখনই ক্রিকেট ছাড়ার কোন ইচ্ছা আমার মধ্যে নেই। ক্রিস রজার্স তার ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় টেস্ট খেলার জন্য ৩৫ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করেছে। আমার বয়স এখন ৩৭ নয়, ৩৪। এই সিরিজের পরেই আমি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলা চালিয়ে যেতে চাই। যদিও অন্য সকলের মতই পারফরমেন্স করেই আমাকে দলে টিকে থাকতে হবে।
পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে আছে। ক্লার্ক স্বীকার করেছেন এই দলে তার বাজে ফর্মের অর্থ হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া ১০ জন খেলোয়াড়কে নিয়ে খেলছে। কিন্তু নিজের ফর্ম ফিরে পাবার ব্যাপারে আশাবাদী ক্লার্ক। তিনি বলেন, ‘চাপের মধ্যে থেকে আমি আগেও নিজেকে ফিরে পেয়েছি। এখনও যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য আমি প্রস্তুত। এখন শুধুমাত্র নিজের উপর আত্মবিশ্বাস রেখে কঠোর পরিশ্রম করে যেতে চাই।’
অন্যদিকে, ইংলিশ অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক আত্মবিশ্বাসী যে তার দল এসবাস্টনের ফর্ম ধরে রাখতে পারবে ট্রেন্ট ব্রিজেও। প্রথম টেস্টে জিতে সিরিজে এগিয়ে যাওয়া স্বাগতিকরা তৃতীয় টেস্টে ৮ উইকেটের জয় নিতে আবারো এগিয়ে যায় সিরিজে। লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়ায় অবশ্য সমতায় ফিরতে বাধ্য হয়েছিল কুকের দল।
এদিকে, এই টেস্টে মার্ক উডের দলে ফেরা প্রায় নিশ্চিত। সাইড স্ট্রেইনের জন্য মাঠের বাইরে চলে যাওয়া জেমস অ্যান্ডারসনের জায়গা নেবেন তিনি। তবে দলের মূল বোলারের ঘাটতি উড কতটা পূরণ করতে পারবেন সেই প্রশ্ন অবশ্য থেকেই যাচ্ছে।
অন্যদিকে, অ্যান্ডারসন নিজেও অভিনব সব পদ্ধতি ব্যবহার করে ফিরতে মরিয়া ওভালে শেষ টেস্টেই। নিয়ম করে ব্যবহার করছেন অক্সিজেন ট্যাঙ্ক। এই পদ্ধতি তার দ্রুত আরোগ্যে ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন দলটির ফিজিও। সূত্র: ওয়েবসাইট