সিলেট নগরে ৯৬৮ কিলোমিটার নালা-নর্দমা রহিয়াছে। তন্মধ্যে ঢাকনা রহিয়াছে মাত্র ১৫০ কিলোমিটার নর্দমায়। ঢাকনাবিহীন অবস্থায় আছে ৮১৮ কিলোমিটার নর্দমা। তন্মধ্যে আবার ঘনবসতিপূর্ণ পাড়া-মহল্লার অধিকাংশ নর্দমাই উন্মুক্ত—যাহা বিশেষ করিয়া শিশুকিশোরদের জন্য খুবই বিপজ্জনক। ইহা ছাড়াও নগরের উপর দিয়া প্রবাহিত ৯টি ছড়া বা প্রাকৃতিক খালের অন্তত ২৫ কিলোমিটার অংশও উন্মুক্ত রহিয়াছে। ইহার যে কত রকম বিপত্তি— তাহা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন। তাহার বেশকিছু উদাহরণ উঠিয়া আসিয়াছে গত সোমবার সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে। যেমন— নগরের ব্রাহ্মণশাসন এলাকার মূল রাস্তার পাশ ঘেঁষিয়াই হা করিয়া আছে নর্দমা। ফলে প্রায়শ ঘটিতেছে দুর্ঘটনা। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে একদিকে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়া যায়, অন্যদিকে তেমনি বিষাক্ত ময়লা-আবর্জনা ছড়াইয়া পড়ে জনপদে। তবে উন্মুক্ত বা খোলা নর্দমার সর্বাপেক্ষা বড় বিপদ হইল মশা, মাছি ও দুর্গন্ধ— যাহা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। অবশ্য সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল শাখার পক্ষ হইতে বলা হইয়াছে যে, সমপ্রতি নগরের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা সম্প্রসারণের পাশাপাশি নর্দমাগুলিও প্রশস্তকরণ ও পুনর্নিমাণের কাজ শুরু হইয়াছে। এই কাজের অংশ হিসাবে অনেক নর্দমায় নূতন করিয়া ঢাকনা বসানো হইতেছে। অতএব, আশা করা যায় যে, নগরবাসীর এই ভোগান্তি দীর্ঘস্থায়ী হইবে না।
রাজধানী ঢাকার সহিত তুলনা করিলে সিলেটবাসীর মনোবেদনা যে বহুলাংশে বৃদ্ধি পাইবে তাহাতে সন্দেহ নাই। নবনির্মিত ঢাকার নান্দনিক ফুটপাত ও ঢাকনাযুক্ত আধুনিক নর্দমাব্যবস্থা দেখিলে বঞ্চিতদের মন খারাপ হইবারই কথা। কিন্তু সিলেটবাসীর নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে হইবে যদি তাহারা দেশের অপরাপর জেলাশহরগুলির সহিত নিজেদের তুলনা করেন। বহু জেলা শহরে এখনো কার্যকর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাই গড়িয়া উঠে নাই। আর সেই বাস্তবতা দেখিবার জন্য খুব দূরে যাইবারও দরকার নাই, ঢাকার আশেপাশের শহরগুলি দেখিলেই চলিবে। এমনকী রাজধানী ঢাকার নর্দমা ও ফুটপাতের যে চকচকে চেহারা— তাহাও খুব বেশিদিন আগের নহে। পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য যে ধরনের অর্থনৈতিক সামর্থ্য থাকা দরকার সেইটি যে আমাদের ছিল না তাহা অস্বীকার করিবার উপায় নাই। অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নের সাথে সাথে অবকাঠামোগত চিত্রও যে বদলাইয়া যাইতেছে রাজধানী ঢাকাই তাহার একমাত্র উদাহরণ নহে। অর্থনৈতিক অগ্রগতির বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকিলে ধীরে ধীরে গোটা দেশই যে বদলাইয়া যাইবে তাহাও নিঃসংশয়ে বলা যায়। সরকারের সদিচ্ছার অভাব নাই। তবে কোনোকিছুই আপনাআপনি হয় না। ইহার জন্য নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ যেমন দরকার, তেমনি শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতারও কোনো বিকল্প নাই।