লাল পাহাড়ের সবুজ এই ক্যাম্পাসটাতে প্রবেশ করতেই চোখ পড়ে একটা চত্বর। নামটা ‘বাবুই চত্বর’। চত্বরটির এই নামই যেন প্রকাশ করে এর অভিনবতা। পুরো নতুন আঙ্গিকে, নতুন সাজে চত্বরটির মৌলিকতা প্রকাশ করে। পুরো ক্যাম্পাসে এমন জায়গা খুঁজে পাওয়া ভার।
সূচনাটা হয়েছিলো বাংলা বিভাগের শিক্ষক আর শিক্ষার্থীদের হাত ধরে। প্রকৃতি আর নতুনত্বের ডাকে যিনি সব সময়ই সাড়া দেন, বাংলা বিভাগের শিক্ষক নাহিদা নাহিদ এর কথা না বললেই নয়। তার সৃজনশীল চিন্তা চেতনার ফলই আজকের এই বাবুই চত্বর। ক্যাম্পাসকে আরো প্রাণবন্ত করে তুলতে, প্রকৃতির সাজ কে আরো একটু অভিনব রূপে রূপায়িত করতে, প্রকৃতি নিয়ে খেলা করা জীবনবোধ সম্পন্ন মানুষ নাহিদা নাহিদ চিন্তা করেন বাবুই চত্বরের। যেই কথা সেই কাজ। শিক্ষার্থীদের নিয়ে শুরু করেন বাবুই চত্বরের কাজ। বাংলা বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গড়ে উঠে নতুন আঙ্গিকের এই চত্বর।
ক্যাম্পাসের সকল শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করে এই স্থানটি। ছোট্ট টিলা পাহাড়ের উপরে, ছোট একটা ঘর, নিপুণ হাতের কাজে সাজানো, দেখলে মনে হয় এখান থেকেই সম্ভব একটি মহাকাব্য লিখা। নিচ থেকে পাহাড়ের উপরে এই স্থানটি দেখলে মনে হবে, পাহাড়ের কি সাজ, কেউ যেন পাহাড়কেই বধূর সাজে সাজিয়েছেন। নোলক পরা আর ঘোমটা দেয়া কেউ যেন দাঁড়িয়ে আছে লাজুক ভাবে।
লাল মাটির পাহাড়ের বাবুই চত্বরে উঠলে যেন চমক আরো বেড়ে যায়। টিলা থেকে নিচে তাকালে যেন নিজেকে একটা রাজ্যের পতি মনে হয়, মনে হয় এই সাম্রাজ্য তো আমার দখলেই।
খেজুর, কাঁঠাল, আরো অনেক গাছ গাছালির সমারোহে প্রশান্তির জায়গা। এসব গাছের আবার আলাদা নামও রয়েছে, শঙ্খচিল, আবার কোনোটার নাম ডাহুক, কি বিচিত্র নাম। নেমপ্লেট ঝুলানো এসব গাছ যেন গাছই নয়, একেক জনের স্নেহের পরশে ডাকা নামে এরা যেন সাড়াও দেয় যে, ‘তোমাদের সাথে আমরাও হারিয়ে যাবো, সাথে নাও আমাদের’।
যার হাত ধরে বাবুই চত্বরের উত্থান, বাংলা বিভাগের শিক্ষক নাহিদা নাহিদ তার স্বপ্নের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসের ছাত্রছাত্রীরা আমার কাছে বাবুই পাখির মত; তাল গাছের নিচে বাবুই পাখির মত সবাইকে নিয়ে একসাথে জীবনের রং খুঁজতে চাই, বাবুই চত্বরে আগামীতে আরো চমত্কার কিছু থাকবে, সব শিক্ষার্থীরাই যাতে ক্যাম্পাসে কিছু ভালো সময় কাটাতে পারে, এমনটাই চাওয়া’।
ক্যাম্পাসের সকল শিক্ষার্থীদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই জায়গাটি। ক্লাসের বিরতিতে একটু হাওয়া লাগাতে প্রায় সবাই আসে এখানটায়। চত্বরের ছোট্ট কাছারিতে বলে বেড়ায় একেক জনের জীবনের গল্প, আবার কখনো হাসি ঠাট্টায় মুখরিত করে তোলে প্রান্তর। কেউবা দোলনায় দোল খায়, আবার কেউবা দোলা দেয়! বিচিত্র এক পরিবেশের সমাহার এখানটায়। প্রকৃতি আর সৃজনশীল মানুষের মিলিত হাতে গড়া হলে যা হয় আরকি।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী হায়াতুল্লাহ পাঠান তার অভিব্যক্তি প্রকাশে বলেন, ‘ক্যাম্পাসের পরিবেশই পরিবর্তন হয়ে গেছে বাবুই চত্বর হওয়ার কারণে, এখন আড্ডা ও গান হয়, আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রাণবন্ত থাকে ক্যাস্পাস’।
হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী আফসানা রিতু বলেন, বিকেলের আড্ডাটাও জমে বেশ, এখানকার দোলনায় দোল খাওয়া এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি, ক্যাম্পাসটা আগের চেয়ে আরো সুন্দর হয়ে উঠেছে।