রাজধানীতে ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযানের দ্বিতীয় দিন গতকাল বৃহস্পতিবার ১৫টি বাস জব্দ করে ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয়েছে। আর লাইসেন্স না থাকা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে ১১ জন চালকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে অভিযানের পর থেকে রাজধানীতে গণপরিবহনের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। এতে দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা।
ডিএমপির ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মশিউর রহমান যাত্রাবাড়ীর মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে ও বিআরটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুল বাশার আগারগাঁও এলাকায় অভিযান চালান। এসময় যাত্রাবাড়ী থেকে ২টি বাস আটক করে ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয় এবং বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে এক চালককে ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। অপরদিকে আগারগাঁও এলাকায় অভিযান কালে ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয় ১৩টি বাস। এসময় লাইসেন্স না থাকায় ১০ জন চালককে সাজা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে ১৫ হাজার টাকা।
গত সোমবার হাইকোর্ট সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল করবে না বলে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে। এর পরদিন মঙ্গলবার থেকেই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) যৌথভাবে ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে।
মহাসড়কে অটোরিকশা চান না পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা: এদিকে মহাসড়কে অটোরিকশা (তিন চাকার) বন্ধের সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দ। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটতে (ডিআরইউ) এক সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, পৃথিবীর সব দেশেই মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহন চলাচলে এমন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে পরিষদের আহবায়ক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, মহাসড়কে একই সঙ্গে দ্রুত ও ধীরগতির যানবাহন চলাচলের কারণে দিন দিন দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ সকল গাড়ির অধিকাংশ চালক অনভিজ্ঞ। মাত্র ১ দশমিক ৪২ শতাংশ সড়কে অটোরিকশা (থ্রি -হুইলার) তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, দুর্ঘটনা এড়াতে এর কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সারাদেশে ফিটনেসবিহীন যান চলাচল, অবৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স জব্দ করাসহ ভুয়া লাইসেন্সধারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হাইকোর্টের আদেশের সঙ্গেও তার সংগঠন একমত। আমরা চাই সবাই দেশের প্রচলিত আইন মেনে চলুক। শুধু ১০-১৫দিন নয়, অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে সারা বছর অভিযান অব্যাহত রাখা হোক।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ফারুক তালুকদার সোহেল, সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সদস্যসচিব ওসমান আলী, ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি রুস্তম আলী খান প্রমুখ।