চট্টগ্রামে আরেকটি পোশাক পল্লী হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে মুন্সিগঞ্জের বাউশিয়ার আদলে চট্টগ্রামেও আরেকটি পোশাক পল্লী নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তৈরি পোশাক পণ্য এবং নিরাপত্তা সরঞ্জামের প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গতকাল বাণিজ্যমন্ত্রী এ আশ্বাস দেন। এসময় তৈরি পোশাকের দর বাড়াতে বিদেশি ক্রেতাদের প্রতি আহবান জানান তিনি। তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ আয়োজিত তিন দিনের প্রদর্শনী চট্টগ্রামের হোটেল র্যাডিসনে শুরু হয়েছে। আগামীকাল শনিবার এ প্রদর্শনী শেষ হবে।

 
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, পোশাক খাতে মজুরী বৃৃদ্ধি করা হয়েছে ২২২ শতাংশ। কমপ্লায়েনসে ব্যয়ের কারণে পোশাকের উত্পাদন মূল্য বেড়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের দর বাড়ানো হয়নি। এসময় বিদেশিদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনা ছিল আমাদের জন্য সতর্ক বার্তা। এখন আমরা শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে খুবই সতর্ক।
 
মুন্সিগঞ্জের বাউশিয়ায় গার্মেন্টস পল্লী চালু হলে রপ্তানি আরো প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বাড়বে জানিয়ে তিনি বলেন, এ জন্য চীনের কোম্পানির সঙ্গে ইতিমধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে এ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
 
বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ও দক্ষিণ এশীয় বাণিজ্য পর্যবেক্ষক গ্রুপের চেয়ারম্যান সাজ্জাদ করিম, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেলিগেশন প্রধান ও রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদুন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট ও চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, বিজিএমইএ প্রথম সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। পোশাক খাতের ক্রেতা ও ব্রান্ড প্রতিনিধি, বিদেশি কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞ, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি ও বিনিয়োগকারীরা প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন। প্রদর্শনী উপলক্ষে প্রতিদিন ২টি করে সেমিনার অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
 
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বলেন, গার্মেন্টস খাতের টেকসই অগ্রগতির জন্য বাংলাদেশ সঠিক পথেই রয়েছে। তবে শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তার জন্য আরো কাজ করতে হবে। এ সব খাতে ব্যয় করার জন্য বাংলাদেশ এখন সক্ষমতা অর্জন করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
 
পিয়েরে মায়াদুন বলেন, ৫০ বিলিয়ন রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য উত্পাদনশীলতা বাড়াতে হবে। সেই সঙ্গে পণ্য বহুমুখীকরণ, শ্রমঘন অবস্থা থেকে প্রযুক্তির দিকে স্থানান্তর, শ্রম অধিকারসহ বেশকিছু পরামর্শ দেন তিনি।
 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা সব পক্ষগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবাহান হকের সঞ্চালনায় সেমিনারে বাণিজ্যমন্ত্রী ছাড়াও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাংলাদেশের সস্তা পোশাক ও সস্তা শ্রমের আন্তর্জাতিক প্রচারণার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, এ খাত শুরু হওয়ার চার দশক পর বাংলাদেশ এখন আর এ অবস্থানে নেই। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দীর্ঘ চেষ্টায়ও পোশাক খাত জিএসপি সুবিধা না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত ৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ৫ বিলিয়ন ডলার দিতে হয়েছে। আর কোনো দেশকে দেশটিতে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে এত বেশি শুল্ক দিতে হয় না। জবাবে, সেমিনারে উপস্থিত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, জিএসপি সুবিধার জন্য তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।