দলের সমালোচনায় ওয়ার্ন-পন্টিং

 
অস্ট্রেলিয়া দল বুদ্ধি কিংবা ধৈর্য কোনটির  পরিচয়ই ট্রেন্টব্রিজ টেস্টের প্রথম দিনে দিতে পারেনি বলে মনে করছেন দেশটির দুই কিংবদন্তি শেন ওয়ার্ন এবং রিকি পন্টিং। কঠোর সমালোচনার পাশাপাশি উত্তরসূরিদের উদ্দেশ্যে কিছু পরামর্শও দিয়েছেন দু’জনই।
 
ওয়ার্ন বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেট পুরোটাই কৌশল আর মৌলিকতার বিষয়। সব সময় লড়াই করে যাওয়াটাই আসল। ব্রডের প্রশংসা প্রাপ্য, তিনি (প্রতিপক্ষকে) ওই সব ভুলগুলো করতে বাধ্য করেছেন। কিন্তু আমি এখনও মনে করি, অস্ট্রেলিয়া আরেকটু রক্ষণাত্মক হতে পারতো এবং ভালো কৌশলে খেলতে পারতো।’
 
মাঠে নামার আগে এক জন ব্যাটসম্যানের একটা পরিকল্পনা থাকা উচিত। সেটা এদিন অস্ট্রেলিয়ার কারোরই ছিল না বলে মনে হয়েছে ওয়ার্নের, ‘দেখে মনে হয়েছে তারা (ক্লাকর্রা) কিছুটা হতভম্ব। বাস্তবিক কোনো পরিকল্পনাই ছিল না তাদের। শেষ টেস্ট ম্যাচ থেকে তাদের এটা শেখা উচিত ছিল।’
 
ওয়ার্নের মতে, ‘এই ধরনের উইকেটে কৌশলই আসল। এখানে বল যত দেরিতে সম্ভব খেলা যায় ততই ভালো, নয়তো ছেড়ে দিতে হবে। উইকেট বিলিয়ে না দিয়ে টিকে থাকাটাই আসল,’ বলে মনে করেন টেস্টে সাতশোর বেশী উইকেটের সঙ্গে তিন হাজারের বেশি রান করা ওয়ার্ন।
 
অন্যদিকে ম্যাচের আগে ইতিবাচক খেলার প্রত্যাশার কথা শুনিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়েরা। আর এই বিষয়টা যেন পন্টিংকে বেশি ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। তিনবারের বিশ্বকাপজয়ী এই ব্যাটসম্যান প্রশ্ন তোলেন, ‘এটা বলা কেন? তোমরা রক্ষণে ইতিবাচক হতে পার, বল ছেড়ে অথবা সামনে এগিয়ে গিয়ে কিংবা পিছনে এসে রক্ষণাত্মক খেলে এটা দেখাও। এই কন্ডিশনে জায়গায় দাঁড়িয়ে শট খেলা সম্ভব না। সেটা কাজে আসবে না।’
 
কিভাবে খেলবেন সে নিয়ে ব্যাটসম্যানরা নিজেরাই সন্দিহান ছিলেন বলেও মনে হচ্ছে পন্টিংয়ের, ‘কিভাবে তারা খেলতে চায়, এই বিষয়ে তারা দ্বিধাগ্রস্ত ছিল কি না জানি না। এটা হওয়া উচিত নয়। কন্ডিশন এমন হলে আপনাকে একটা পথ খুঁজে বের করতে হবে।’
 
অস্ট্রেলিয়া ইনিংসের বিপর্যয়ের শুরু হয় প্রথম ওভারেই। শুরুতেই দুই উইকেট হারানোর পর বিপর্যয় সামলাতে না পারা দলটির পক্ষে সর্বোচ্চ ১৩ রান করেন মিচেল জনসন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১০ রান করেন অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক।