আফগানিস্তানের রাজধানীতে শুক্রবার পৃথক বোমা বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৪৪ জন নিহত হয়েছে এবং আরো কয়েকশ’ লোক আহত হয়েছে। গত ডিসেম্বরে আফগানিস্তানে ন্যাটোর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শেষ হওয়ার পর দিনটি ছিল কাবুলের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ।
তালেবান নেতা মোল্লা ওমরের মৃত্যুর খবর ঘোষণার পর এটি ছিল কাবুলে প্রথমবারের মত বড় ধরনের জঙ্গি হামলা। শুক্রবার মধ্যরাতের পরপরই কাবুলের মধ্যাঞ্চলে একটি শক্তিশালী ট্রাক বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে ১৫ বেসামরিক লোক নিহত ও ২৪০ জন আহত হয়।
এর ২৪ ঘন্টারও কম সময়ের মধ্যে কাবুল পুলিশ একাডেমির প্রবেশমুখে পুলিশের পোশাক পরা এক আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে কমপক্ষে ২০ আফগান ক্যাডেট নিহত হয়।
তালেবান কাবুল সামরিক ঘাঁটির কাছে প্রথম হামলার কথা স্বীকার না করলেও দ্বিতীয় হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে। এছাড়া শুক্রবার বিমানবন্দরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর একটি ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে। এ সময় বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির খবর পাওয়া যায়। এ সময় নয়জন নিহত হয়।
বিস্ফোরণের পরপরই কাবুলের মধ্যাঞ্চলের আকাশে সামরিক বিমান চক্কর দিতে দেখা গেছে। গত সপ্তাহে মোল্লা আখতার মনসুরকে নতুন তালেবান প্রধান হিসেবে ঘোষণা করার পর শুক্রবার প্রথমবারের মত বড় ধরণের এ হামলা হল।
সহিংসতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মোল্লা মনসুর তালেবান ক্যাডারদের মধ্যে তার ভাবমূর্তি জোরদার এবং নেতৃত্ব নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিভাজন থেকে অন্যদিকে দৃষ্টি ফেরানোর চেষ্টা করছেন বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আব্দুল হাদি খালেদ বলেন, তালেবানের সক্ষমতা বোঝাতে নতুন এ হামলা একটা কৌশল।