হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর শহর রক্ষা বাঁধে ফাটল

ভাঙনের আশঙ্কা

 হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

হবিগঞ্জ শহরের কামড়াপুর অংশে খোয়াই নদীর শহর প্রতিরক্ষা বাঁধে দীর্ঘ ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রায় ৪ মাস আগে শহরের কামড়াপুর অংশে কুড়ি হাঁটি এলাকায় গভীর ও দীর্ঘ ফাটল দেখা দিলেও স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড এটি মেরামতের তেমন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী নিজামুল হক ভুঁঁইয়া। সম্প্রতি কামড়াপুর পয়েন্টে ধসে যাওয়া অংশ পরিদর্শনে আসেন তিনি।

এ সময় তিনি জানান, বাঁধের ভেতরে ও বাঁধের উপর অবৈধ দখলদাররা স্থাপনা নির্মাণ করায় এটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, বাঁধের পাশের বাসিন্দারা সচেতন হলে এটি রক্ষা পাবে। তাদের অসচেতনতায় দিন দিন বাঁধটি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। তিনি শহরবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এ বিষয়ে অবগত রয়েছে। যথাসময়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের সংস্কার কাজ শেষ করা হবে।

পরে তিনি জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদের সাথে তার কার্যালয়ে সাক্ষাত্ করে খোয়াই নদীর বাঁধের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় ৬ মাস পূর্বে বাঁধ মেরামতের বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়সহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পত্র দেয়া ছাড়াও পানি মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নিয়ে সরেজমিনে বাঁধ পরিদর্শন করা হয়। তিনি বাঁধের উপর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ সার্বিক বিষয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর খোয়াই নদীর বাঁধের কামড়াপুর অংশে প্রায় ৩৫০ ফুট লম্বা ফাটল দেখা দেয়। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ৪ মাস অতিবাহিত চললেও এটি মেরামত না হওয়ায় তা দিনে দিনে দীর্ঘ হচ্ছে। এছাড়া মার্চ-এপ্রিল মাসে বৃষ্টিপাত শুরু হলে ধসনামা বাঁধের এ অংশটি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এছাড়া গত বছর বর্ষা মৌসুমে খোয়াই নদীতে পানি বিপদসীমার ২৫০ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তখন ওই স্থানে বাঁধের উপর দিয়ে পানি শহরে প্রবেশ করে। বাঁধের কয়েকটি স্থানে ফাটলও দেখা দেয়। এ অবস্থায় প্রশাসনের পাশাপাশি আতঙ্কিত মানুষজন রাতভর বালুর বস্তা দিয়ে বাঁধ এসব ফাটল আটকে দেয়।