পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শুরু হয়েছে। বুধবার তাকে জেরা করবেন নিহত দম্পতির একমাত্র মেয়ে ঐশী রহমানের আইনজীবীরা।
মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ পরিদর্শক আবুয়াল খায়ের মাতুব্বর ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।
সংশ্লিস্ট বিচারক সাঈদ আহেমদ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে মামলাটির প্রধান আসামি ঐশী রহমানের পক্ষে আইনজীবী ফারুক আহমেদ সাক্ষীকে আংশিক জেরা করে সময় চান। বিচারক আবেদন মঞ্জুর করেন। বুধবার পর্যন্ত সাক্ষ্য গ্রহণ মুলতবি করে সাক্ষীকে অবশিষ্ট জেরার জন্য বেলা ১১টায় সময় ধার্য করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি মাহবুবুর রহমান জানান, মামলাটির ৫৭ জন সাক্ষীর মধ্যে এর আগে ৩৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। ৩৭তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিচ্ছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার সাক্ষ্য গ্রহণের আগে কারাগার থেকে ঐশী ও তার বন্ধু আসাদুজ্জামান জনিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অন্য আসামি মিজানুর রহমান রনি জামিনে থেকে আদালতে হাজির ছিলেন। চলতি বছরের গত ৩১ মার্চ তাকে জামিন দেন ট্রাইব্যুনাল।
এ নিয়ে মামলাটিতে নতুন করে দাখিল করা সম্পূরক অভিযোগপত্রভুক্ত মোট ২৮ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। মামলায় সস্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের পর গত বছরের ৩০ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।
গত বছরের ২৪ আগস্ট এ মামলায় ঐশী ও তাদের গৃহকর্মী খাদিজা আক্তার সুমি (১১) ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
এ হত্যার ঘটনায় সহায়তাকারী আসামি গৃহকর্মী খাদিজা আক্তার সুমি (১১) অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় শিশু আদালতে তার বিচার চলছে। গত বছরের ২০ মে একই ধারায় সুমির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে তার মা সালমা বেগমের জিম্মায় জামিন দেয়া হয়। ১০ দিন পর ১ জুন গাজীপুরের কিশোর সংশোধন কেন্দ্র থেকে সে মুক্তি পায়।
২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর মালিবাগের চামেলীবাগে নিজেদের বাসা থেকে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (পলিটিক্যাল শাখা) ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন নিহতের ছোট ভাই মশিউর রহমান রুবেল। পরদিন নিহত দম্পতির মেয়ে ঐশী রহমান নিজেই রমনা থানায় আত্মসমর্পণ করে।