সিলেটে ছাত্রলীগে কোন্দল ছুরিকাঘাতে কর্মীর মৃত্যু

সিলেটের মদন মোহন কলেজে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ছুরিকাঘাতে আব্দুল আলী আলীম (১৯) নামে এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। আলীম দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন। তিনি দক্ষিণ সুরমা উপজেলর মোগলাবাজার থানার শিলাম গ্রামের আকলিস মিয়ার ছেলে। তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়। ঘটনার পর প্রধান অভিযুক্ত প্রনেনজিত ও রাহুল নামের অপর একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদিকে আধিপত্য বিস্তার এবং রুম দখল নিয়ে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে নর্থ হলের শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের পদ প্রত্যাশী লেলিনের মাথায় প্রতিপক্ষ রামদা দিয়ে আঘাত করে। তাকে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়েছে।

 
মদন মোহন কলেজ সূত্রে জানা যায়, আব্দুল আলী আলীম ছাত্রলীগ বিধান সাহা গ্রুপের কর্মী ছিলেন। কলেজ ক্যাম্পাসে আড্ডা দেয়া নিয়ে একই গ্রুপের কয়েকজন কর্মীর সাথে আলীমের কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কলেজের একাডেমিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় ছাত্রলীগ ক্যাডাররা তাকে ছুরিকাঘাত করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অপারেশন থিয়েটারেই তার মৃত্যু হয়। চিকিত্সকরা তার শরীরে ১০ ব্যাগ রক্ত দিয়েও শেষ পর্যন্ত বাঁচাতে পারেননি। বেলা আড়াইটার দিকে কর্তব্যরত চিকিত্সক আলীমকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে তার স্বজন ও সহপাঠীরার ছুটে আসেন হাসপাতালে। অনেকেই সেখানে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
 
আব্দুল আলী আলীমের বাবা আকলিস মিয়া জানান, দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে আলীম ছিল বড়। এইভাবে সামান্য কথাকাটাকাটি নিয়ে তার ছেলেকে প্রাণ দিতে হবে এটা তিনি মানতে পারছেন না। তিনি বলেন, বড় আশা ছিল ছেলে লেখাপড়া করে বড় হবে। কিন্তু সে এখন লাশ হলো। তিনি এই হত্যার বিচার চেয়েছেন। সিলেট কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহত আলীম ছাত্রলীগ কর্মী ছিল। হত্যাকারীদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান শুরু করছে বলেও তিনি জানান।
 
এদিকে গতকাল বুধবার ভোররাতে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের বৃহত্তর ময়মনসিংহ গ্রুপের দুই পক্ষের মধ্যে রুম দখল নিয়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। উত্তর ছাত্রবাসের কয়েকটি রুম দখলকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সোহেল রানা গ্রুপের কর্মীরা অতর্কিত জামাল, হিরণ ও রাসেলের গ্রুপের ওপর হামলা চালায়। এসময় উত্তর ছাত্রবাসের লেলিন, রানা, মাইনুল, আমিনুল, সাদ্দামসহ ২০ জন আহত হন। পরে তাদের হল থেকে বের করে দেয় সোহেল রানার অনুসারীরা। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, বুধবার ভোর রাতে নর্থ হলের ১০৯, ১১১, ১১২, ১১৪, ২১১ ও ২১৪ নম্বর রুমকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। প্রথম দিকে ইন্টারন্যাশনাল ছাত্রাবাস থেকে সোহেল রানা গ্রুপের ছাত্রলীগের কর্মীরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নর্থ হলে প্রবেশ করে। এরপর সেখানকার ছাত্রলীগ কর্মীদের মারধর শুরু করে। পরে রুমগুলো থেকে সেখানকার কর্মীদের বের করে দিয়ে রুমগুলো দখল করে। সংঘর্ষে ১০/১২ জন আহত হয়। বর্তমানে ওই রুমগুলো সোহেল রানার অনুসারীদের দখলে রয়েছে।
 
ঘটনার বিষয়ে নর্থ হলের ২১৪ নম্বর রুমের বোর্ডার ও ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী জামাল উদ্দীন মাহী বলেন, আমরা সবাই ছাত্রলীগের সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকি নাজমুল আলমের অনুসারী। ঘুমন্ত অবস্থায় আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধর করে ক্যাম্পাস থেকে আমাদের বের করে দেয়া হয়। আমাদের কমপক্ষে ২০/২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আমাদের গ্রুপের ৪/৫টি পালসার মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও রুম থেকে লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। সোহেলসহ আশরাফুল সৈকত, সুমন, রহমতউল্লাহ, ওয়াশিম বিশ্বাসের নেতৃত্বে অতর্কিত এই হামলায় বহিরাগত সন্ত্রাসীরা অংশ নেন বলে জানান ছাত্রলীগ কর্মী জামাল।
 
তবে ঘটনায় নিজে উপস্থিত ছিলেন না বলে দাবি করে সোহেল রানা বলেন, আমি দুইদিন থেকে আমার গ্রামের বাড়ি অবস্থান করছি। ক্যাম্পাসের পরিস্থিতির বিষয়ে আমি পরে শুনেছি। আমি যতদূর জানি, রাসেল, লেনিন, জামালসহ অন্যরা ক্যাম্পাসে জুনিয়রদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতো। তাদের মধ্যে ভুলবোঝাবুঝি থেকেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আমি ঢাকায় এসেই বিস্তারিত খবর নিব। এদিকে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করেছেন উত্তর ছাত্রবাসের হল সুপার পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক মো. ওবায়দুল করিম। তিনি বলেন, ভোর রাতে হালকা কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটেছে। তবে মারাত্মকভাবে কেউ আহত হননি।