‘রং-তুলিতে শোকগাথা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ছবি এঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দেশের বরেণ্য শিল্পীরা। বঙ্গবন্ধুর ৪০তম শাহাদাত্ বার্ষিকী উপলক্ষে তার জীবন ও কর্মকে বিভিন্ন চিত্রের মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন তারা। চিত্রশিল্পীদের ক্যানভাসে বিষয়বস্তু হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের সেই কালরাতের ঘটনা।
গতকাল বুধবার বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত ৩২ ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এই চিত্রাঙ্কন কর্মশালার আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। অনুষ্ঠানটি সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলে। এতে দেশের প্রথিতযশা অর্ধশতাধিক শিল্পী ছবি এঁকে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ব্যতিক্রমী এ অনুষ্ঠান দেখতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
দেশের যে সকল গুণী শিল্পী এই আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: শিল্পী মোস্তফা মনোয়ার, সমরজিত্ রায় চৌধুরী, আবুল বারক আলভি, বীরেন সোম, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, নাসিম আহমেদ নাদভী, নাঈমা হক, রেজাউন নবী, অশোক কর্মকার, মো. মনিরুজ্জামান, আবদুল মান্নান, জাহিদ মুস্তফা, খালিদ মাহমুদ মিঠু, শাহজাহান আহমেদ বিকাশ, বিপাশা হায়াত, বিশ্বজিত্ গোস্বামী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থেকে একাত্তর ও পঁচাত্তরের ঘাতকদের রুখে দিতে হবে। ছবি এঁকে বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য শিল্পীদের তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।
চিত্রশিল্পী বীরেন সোম তার ছবির বিষয়বস্তু হিসেবে নিয়েছিলেন ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত্রিকে। রং-তুলিতে তিনি ওই রাতের বঙ্গবন্ধুকে তুলে এনেছেন। নিজের ছবির বিষয়বস্তু তুলে ধরে দেশের এই বরেণ্য চিত্রশিল্পী বলেন, ‘জীবনে অনেক বড় বড় ক্যানভাসে ছবি আঁকার সুযোগ হয়েছে। তবে বঙ্গবন্ধুর মত একজন বিশ্বমানের নেতাকে নিয়ে অনেকে একত্রে মিলে এ রকম ছবি আঁকার সুযোগ আগে হয়নি।’
কর্মশালায় স্বাধীনতা আন্দোলনের ‘অগ্রনায়ক’; ‘সংগ্রামী জননেতা’, স্বাধীনতা পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে ‘স্বপ্নবাজ পুরুষ’, ‘ঘাতকের বুলেটে বিদায়’-এভাবে নানারূপে বঙ্গবন্ধুকে রঙ-তুলির আঁচড়ে ক্যানভাসে তুলে আনেন শিল্পীরা। সবার অঙ্কনের মাধ্যম ছিল এক—‘অ্যাক্রেলিক’। চিত্রাঙ্কনের ফাঁকে ফাঁকে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে স্মৃতিচারণও করেন প্রবীণ শিল্পীরা। বিকালে যৌথভাবে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন শিল্পী মোস্তফা মনোয়ার ও শাহাবুদ্দিন আহমেদ।