বাংলাদেশ-ভারত ছোটদের লড়াই আজ

সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের গ্রুপ থেকে বাংলাদেশ এবং ভারত দুই দলই সেমিফাইনালে উঠে গেছে। আজ সিলেট স্টেডিয়ামে বিকাল ৫টায় এই দুই দলের লড়াইয়ে নির্ধারণ হবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন এবং রানার্স-আপ। বাংলাদেশকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে হলে ম্যাচে ভারতকে হারাতে হবে। আর ম্যাচ যদি ড্র হয় তাহলে গোল গড়ের হিসাবটা উঠে আসবে। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারত ৫-০ গোলে শ্রীলংকাকে হারিয়ে গোল গড়ে এগিয়ে রয়েছে। সেমিফাইনালে বাংলাদেশ কোন দলকে পাবে সেটা এখনো নিশ্চিত না। কারণ ‘বি’ গ্রুপে আফগানিস্তান নেপালের ম্যাচ রয়ে গেছে। তার আগেই ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ হবে আজ। ২০১১ এবং ২০১৩ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত গত দুইটি সাফে ভারত-বাংলাদেশ মুখোমুখি হয়নি। এবারই প্রথম জুনিয়রদের লড়াই হতে যাচ্ছে। আর এই নিয়ে সিলেটের ফুটবলে টানটান উত্তেজনাও আছে। কারণ ভারত-বাংলাদেশের বড়দের লড়াই সব সময় বাড়তি উত্তেজনা এনে দেয় ফুটবল মাঠে। সেই সূত্রে ছোটদের লড়াইও উত্তেজনার পারদ ছাড়াবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ফুটবল অনুরাগীদের মধ্যে উত্তজনার পারদ থাকলে সেটা দূরে ঠেলে দিতে চান বাংলাদেশের ফুটবলাররা। কোচ সৈয়দ গোলাম জিলানী তার ছেলেদের এমন মন্ত্রই শিখিয়ে দিচ্ছেন। কারণ জিলানী যেমনটা ভাবছেন সব দলই তার কাছে সমান প্রতিপক্ষ সেই সাথে তিনি অতীত স্মৃতিকে টেনে আছেন নিজের সামনে। ২০০১ সালে নেপালে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবলে ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচটা ৩-৩ গোলে ড্র হয়। জাতীয় দলের জাহিদ, মিঠুনরা খেলেছিলেন।  সে ম্যাচে সহকারী কোচ ছিলেন আজকের জিলানী। আত্মবিশ্বাসটা সেখান থেকেও আসছে। আর হয় তো সে কারণে জিলানী তার দলের ছেলেদের বাড়তি উত্সাহ দিচ্ছেন কঠিন লড়াইয়ের।

 
ভারতের বিরুদ্ধে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ভারতকে বড় করে দেখছেন না কোচ। রাকঢাক না করে কোচ জিলানী বলেছেন, ‘ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচটা হবে ফিফটি ফিফটি। যে কেউ জিততে পারে।’ তবে বাংলাদেশের শিবিরে একটা দুর্ভাবনা রয়েছে, শ্রীলংকার বিরুদ্ধে ম্যাচে চার-পাঁচ জন ফুটবলারের মাংসপেশীতে টান লেগেছে। যে কারণে একটু চিন্তা আছে কোচের। গতকাল তারা হালকা অনুশীলন করে। আজ ওই খেলোয়াড়দের শারীরিক পরিস্থিতি দেখে সেরা একাদশ মাঠে নামানো হবে বলে জানিয়েছেন জিলানী।
 
শ্রীলংকার বিরুদ্ধে ৪-০ গোলে জিতলেও বাংলাদেশের ছেলেরা আরো বেশি ব্যবধানে জেতার সুযোগ পেয়েছিল; কিন্তু গোল আসেনি। তাতে আফসোস থাকলেও দলটার মধ্যে বাড়তি আত্মবিশ্বাস হচ্ছে যে সব গোল হয়েছে তা ছিল দেখার মতো। ম্যাচের চারটি গোলই অসাধারণ এবং দৃষ্টি নন্দন। সিলেট স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শক অভিভূত হয়েছেন বাংলাদেশে জুনিয়র ফুটবলারদের খেলা দেখে। টিভির দর্শকরা দারুণ আনন্দ পেয়েছেন চার গোল দেখে। অধিনায়ক শাওন বললেন, আমরা আমাদের দেশের মাটিতে খেলছি। সিলেটের বিপুলসংখ্যক মানুষ মাঠে এসে আমাদের সমর্থন দিচ্ছেন। দলের খেলোয়াড়রাও ছন্দে আছে। তাই আশা করছি ভারতের বিপক্ষে আমরাই জিতবো।
 

বাংলাদেশের ফুটবলে প্রতিভা আছে সেটা যেন আবারও বাফুফের নীতি-নির্ধারকদের জানান দিয়েছে। সিলেটের ফুটবল দর্শকদের কাছে আজ বাংলাদেশ-ভারত উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ হবে। প্রথম ম্যাচে যেভাবে উপচে পড়া দর্শক স্টেডিয়ামে হাজির হয়েছিল। ঠিক আজও তেমন ছবিটাই দেখা যাবে সিলেটের গ্যালারিতে— এমন প্রত্যাশা সিলেট ফুটবল সংগঠকদের।