একদিকে বিক্ষোভ, অন্যদিকে কেমিক্যালবিরোধী অভিযান

ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভের মধ্যেও রাজধানীর পুরান ঢাকার আবাসিক ভবন থেকে কেমিক্যাল গুদাম উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) টাস্কফোর্স। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে অভিযানের পঞ্চম দিন বকশিবাজারের জয়নাগ রোডে অভিযান শুরু হয়। শুরুতেই বিক্ষোভ শুরু করেন প্লাস্টিক ব্যবসায়ীরা। অভিযানের শুরুতেই বকশিবাজারের জয়নাগ রোডে অভিযান চলে। অন্যদিকে আরমানিটোলা ও এর আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে শতাধিক মণ রাসায়নিক দ্রব্য উদ্ধার করেছে র্যাব। চারটি রাসায়নিক দ্রব্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের টাস্কফোর্স জয়নাব রোডের ১১/১ সি নম্বর বাসায় প্লাস্টিক দানার কারখানা ও গুদাম দেখতে পান। পরে কারখানাসহ পুরো ৭ তলা ভবনের বিদ্যুত্ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। একই রোডের আরো একটি বাসার নিচতলায় প্লাস্টিক দানার কারখানা পাওয়ায় সেখানেও বিদ্যুত্ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। দু’টি বাসার বিদ্যুত্ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরপরই প্লাস্টিক ব্যবসায়ীরা একত্রিত হয়ে অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভ থেকে তারা অভিযান বিরোধী নানা স্লোগান দেন।

বিক্ষোভ করা প্লাস্টিক ব্যবসায়ী রিয়াদ বলেন, ‘আপনারা পুরান ঢাকায় যেসব দাহ্য পদার্থ রয়েছে সেগুলো সরান, প্লাস্টিকের দানা দাহ্য পদার্থ নয়। যদি গোডাউন সরাতে হয় তাহলে সময় দিন। আর আমাদের জন্য বাড়ির সবাইকে কষ্ট দিচ্ছেন কেন?’ দুই মন্ত্রীর রেষারেষিতে ‘ভুল অভিযান’ পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন এই ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘আমরাও চাই পুরান ঢাকা থেকে সব দাহ্য পদার্থ সরানো হোক।’

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ আহমেদ খানসহ তিতাস গ্যাস, ঢাকা ওয়াসা, ডিপিডিসি, বিস্ফোরক অধিদফতর, পরিবেশ অধিদফতর, ঢাকা জেলা প্রশাসন চকবাজার থানা পুলিশের সদস্যরা অভিযানে উপস্থিত ছিলেন। এদিকে একই সময়ে ডিএসসিসির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে চকবাজার এলাকায় টিম-২ অভিযান শুরু করে। দুপুরে তিনি বলেন, ‘আমাদের ৫টি টিম পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু করে। অভিযান বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলে। এখন পর্যন্ত আমার নেতৃত্বাধীন টিম পাঁচটি গোডাউনের ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। অন্যরাও কাজ করছেন।’

এদিকে রাজধানীর আরমানিটোলা ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে শতাধিক মণ রাসায়নিক দ্রব্য উদ্ধার করেছে র্যাব। গতকাল বেলা ২টা থেকে র্যাব-১০ এর উদ্যোগে মিটফোর্ডের নূরজাহান মার্কেট, আরমানিটোলা ও এর আশেপাশের রাসায়নিক দ্রব্যের গুদামে অভিযান চালায় র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সারোয়ার আলম। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন কেমিক্যাল গুদামে অভিযান চালিয়ে শতাধিক মণ কেমিক্যাল জব্দ করা হয়েছে।’  র্যাবের এই অভিযানে বিস্ফোরক অধিদফতর, ওষুধ প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও অন্যান্য সেবাদানকারী সংস্থা সহযোগিতা করছে। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জানান, দুপুর পর্যন্ত চারটি রাসায়নিক দ্রব্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া তিনশ’ মণ রাসায়নিক দ্রব্য সাতদিনের মধ্যে এখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।