আইন ও শালিস কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেছেন, ‘দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির খুব খারাপ অবস্থা চলছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে সচেতনতায় মানুষের অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। কবি বা শিল্পীরা বিভিন্নভাবে মানবাধিকারের কথা বলছেন। ফলে দিন দিন সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।’
বৃহস্পতিবার রাজশাহী শিল্প-বণিক সমিতি লাউঞ্জে ‘বাংলাদেশের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি : আমাদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস ফোরাম-রাজশাহী, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রচেষ্টা যৌথভাবে এই মতবিনিমিয় সভার আয়োজন করে।
সুলতানা কামাল বলেন, ‘দেশের সাধারণ মানুষ ন্যায় পরায়ন। তারা দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করছেন। এরই মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। নারীর অগ্রযাত্রায় যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। তবে মানুষ অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। সব মানুষ এখনো মধ্যম আয়ের উপযুক্ত হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষ এদেশের মালিক। তাদের ন্যায় বিচার পাবার অধিকার আছে। কেউ অপরাধ করলে তার বিচার হতে হবে। এ জন্য দেশের সকল মানুষকে নিজেদের মধ্যে অধিকার বোধ জাগ্রত করতে হবে। জনগণ রাষ্ট্রের একটা অঙ্গ হলেই সন্ত্রাস-সহিংসতা, দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব হবে।’
তিনি আরো বলেন, দেশটাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারাবাহিকতায় এগিয়ে নিতে হবে। গণতান্ত্রিক দেশ চাইলে সেভাবেই কাজ করতে হবে। প্রতিটি মানুষ যেন তার অধিকার অনুযায়ী প্রাপ্যতা পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। মানবাধিকার হচ্ছে, স্বাধীনতা, শান্তি, ন্যায় বিচার পাওয়া ও শঙ্কামুক্ত জীবন।
রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরল আলমের সভাপতিত্বে সভায় অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির বিভাগীয় প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট দিল সেতারা চুনি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আ ন ম ওয়াহিদ, সমাজসেবা অধিদফতারের সাবেক উপ-পরিচালক মোজাম্মেল হক, হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস ফোরামের সদস্য সচিব ফয়েজুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ। সভাটি সঞ্চালনা করেন বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রচেষ্টার সমন্বয়কারী রাশেদ রিপন।