আমি সরল বিশ্বাসে কাজ করেছি

কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের দেওয়া নথিপত্রের ভিত্তিতেই পাটকল শ্রমিক জাহালমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযোগপত্র দেয়। অভিযোগপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকের যেসব নথিপত্রের ওপর নির্ভর করা হয়েছে তার বৈধতা নিয়েও কমিশনের প্রশ্ন তোলার সুযোগ ছিল না। আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে দেয়া ব্যাখ্যার জবাবে দুদক কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আজ বুধবার বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে এফিডেভিট আকারে এই ব্যাখ্যা দাখিল করা হবে। একইসঙ্গে রুলের চূড়ান্ত শুনানিতে ৫টি ব্যাংকে পক্ষভুক্ত করতে হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছে ওই সংস্থাটি। এগুলো হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক।

দুদক কৌঁসুলি জানান, এখানে ১৮টি ব্যাংক সম্পৃক্ত। এরা গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ। কিন্তু আমরা আপাতত পাঁচটিকে পক্ষভুক্ত করতে আবেদন জানিয়েছি। এদেরকে পক্ষভুক্ত করলেই সত্য ঘটনা বের হয়ে আসবে। তিনি বলেন, আমি ব্যাংকের ডকুমেন্টের ভিত্তিতে সরল বিশ্বাসে কাজ করেছি। এ বিষয়ে দুদক আইনের ৩১ ধারায় বলা হয়েছে, আমি যদি সরল বিশ্বাসে কাজ করে থাকি তাহলে দায়মুক্তি পাওয়া যাবে। ফলে এখানে আমার দায় কতটুকু সেটা নির্ণয় করবে আদালত।

গত ২ ফেব্রুয়ারি ‘২৬ মামলায় ‘ভুল’ আসামি জেলে: ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’— শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে পরদিন হাইকোর্ট জাহালমকে মুক্তির নির্দেশ দেয়। একইসঙ্গে দুদককে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। প্রসঙ্গত ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে জাহালমের বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অধিকতর তদন্ত করে দুদক। ওই বছরে দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, এজাহার ও অভিযোগপত্রে বর্ণিত আসামি মোঃ আবু সালেক ওরফে জাহালম (টাঙ্গাইল) প্রকৃত অপরাধী নয়। অধিকতর তদন্তে দেখা যায় মোঃ আবু ছালেক (ঠাকুরগাঁও) প্রকৃত অপরাধী। এই মামলায় জাহালমকে আসামি করা হয়েছে মূলত বিভিন্ন সাক্ষীদের জবানবন্দি ও শনাক্তের ভিত্তিতে। সাক্ষীদের পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানান যে ছবির সাথে মিল থাকায় জাহালমকে তারা আবু ছালেক বলে শনাক্ত করেন।