বাড্ডায় ট্রিপল মার্ডার: সুমনের স্ত্রী ও মিলন আটক!

 
একটি গার্মেন্টেসের নিয়ন্ত্রণ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মাহবুবর রহমান গামার হাতে চলে যাওয়ায় তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে ঘাতকরা। ওই গার্মেন্টস আগে নিয়ন্ত্রণ করত যুবলীগের বাউল সুমন। তাকে পরিকল্পিতভাবে পুলিশে ধরিয়ে দিয়ে গার্মেন্টসটি নিয়ন্ত্রণে নেয় গামা। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বাউল সুমন মারা যাওয়ার পর ওই গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ বাড্ডা থানা যুবলীগের মিলনের হাতে চলে যায়। পুলিশ ধারণা করছে—বাউল সুমনের স্ত্রী ও মিলনের পরিকল্পনায় ট্রিপল মার্ডার হয়েছে। এ বিষয়টি নিশ্চিত হতে শনিবার পুলিশ বাউল সুমনের স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
 
অন্য দিকে, যুবলীগের মিলনকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। তবে বাউল সুমনের স্ত্রী ও মিলন এই ট্রিপল মার্ডারের পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত থাকার ব্যাপারে পুলিশের কোনো শীর্ষ কর্মকর্তা নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। তাদের আটক করা হয়েছে—এমন খবর সাংবাদিকদের কাছে পুলিশ কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেননি। তবে বাড্ডার স্থানীয় সূত্রে এ খবর নিশ্চিত করা গেছে।
 
শনিবার বিকাল পর্যন্ত এ ঘটনায় বাড্ডা থানায় কোনো মামলা হয়নি। তবে বাড্ডা থানার ওসি এম এ জলিল বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গামার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। গামার বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করার কথা ছিল। এ ছাড়া, শামসুদ্দিন মোল্লার পরিবারের পক্ষ থেকে বাদী হয়ে মামলা হওয়ার কথা। তবে হত্যার ঘটনায় একটি মামলা হবে। মামলায় নিহত তিন জনের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হবে। এ জন্য মামলায় অভিযোগের ধরন নিয়ে তিন পরিবারের মধ্যে কথাবার্তা চলছে।
 
এদিকে, শুক্রবার বিকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে গামার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, গামার এক ভাই যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। তিনি দেশে ফিরলে লাশ দাফন করা হবে। এ জন্য গামার লাশ বারডেম হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে।
 
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি সূত্র জানায়, থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি এই ঘটনা ছায়া তদন্ত করছে। প্রাথমিকভাবে ডিবি শনিবার সকাল বাউল সুমনের স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তাকে ঢাকা বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
 
ডিবি সূত্র জানায়—এই হত্যা পরিকল্পনার সঙ্গে বাউল সুমনের স্ত্রীর একটি যোগসাজশ রয়েছে। বাউল সুমনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি বাড্ডা থানা যুবলীগের নেতা মিলন। বাউল সুমন মারা যাওয়ার তার চাঁদাবাজি ও দখলদারি এলাকাগুলো দেখভালের দায়িত্ব নেন মিলন। কিন্তু মিলনের প্রভাব প্রতিপত্তি কমে যাওয়ায় ওই এলাকা দখলে নেয় গামা। সর্বশেষ মধ্য বাড্ডার স্টার গার্মেন্টেসের কিছু শেয়ার বাউল সুমন গ্রেফতার হওয়ার আগে তার নামে কিনে নেন। বাউল সুমন মারা যাওয়ার পর ঐ গার্মেন্টেস দখলে নেয় গামা। এ থেকেই গামাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল এই কিলিং মিশনে নেতৃত্ব দেন বলে ডিবি পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। জুয়েলের নেতৃত্বে হারুন, তৌফিক, মামুন, লিটনসহ ৭ জন ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে তিন জনের হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে তারা গুলি করে পালিয়ে যায়।
 
পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার এসএম মোস্তাক আহমেদ জানান, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনাস্থলে যারা ছিলেন তাদের বক্তব্য নিয়েছে পুলিশ। অনেকেই আতংকে পুলিশের কাছে তথ্য দিতে ভয় পাচ্ছে। আমরা স্থানীয় জনগণকে বলেছি, কোনো নিরীহ ব্যক্তি হয়রানির শিকার হবে না।
 
বাড্ডা থানা আওয়ামলীগের সভাপতি ওসমান গনি জানান—শোক দিবস উপলক্ষে থানা আওয়াম লীগের শোক দিবসের অনেক কর্মসূচি ছিল। এ খুনের কারণে কর্মসূচিতে ভাটা পড়েছে। আইন-শৃংখলা বাহিনীকে বলেছি প্রকৃত খুনীকে ধরেন। সাধারণ মানুষ যেন হয়রানি না হয়।
 
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাতে মধ্য বাড্ডার আদর্শনগরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ঢাকা মহানগর সেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান সোহেল ওরফে গামা, ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামছুদ্দিন মোল্লা, ও স্বেচ্ছাসেবকব লীগের কর্মী ফিরোজ আহমেদ মানিক নিহত হন।