ইত্তেফাক রিপোর্ট
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সংসদকে জানিয়েছেন, ঢাকা-ফরিদপুর মহাসড়কে পাটুরিয়া-গোয়ালন্দ অংশে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ সেতু নির্মাণে পিডিপিপি নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সংসদে টেবিলে উপস্থাপিত প্রশ্নোত্তরে সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খানের প্রশ্নের জবাবে সেতু মন্ত্রীর পক্ষে লিখিত জবাবে একথা জানানো হয়।
উল্লেখ্য, ওবায়দুল কাদের বর্তমানে সিঙ্গাপুরে চিকিত্সাধীন। গত কয়েকদিন ধরেই সংসদে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হচ্ছে। একইভাবে গতকালও প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
ওবায়দুল কাদের আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গত বছরের ৩০ মে পিপিপি কর্তৃপক্ষের বোর্ড অব গভর্নরস-এর ২য় সভায় ‘২য় পদ্মা বহুমুখী সেতুর উদ্যোগ বর্তমানে নির্মাণাধীন সেতুর কার্যক্রম সমাপ্ত হলে এর অভিজ্ঞতা পর্যালোচনার পর গ্রহণ করা যেতে পারে’ মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সরকারি দলের সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী সংসদকে জানান, বিআরটিএ’র পক্ষ থেকে পরিচালিত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২০০৯ হতে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২ লাখ ২১ হাজার মামলায় ২৩ কোটি ২৬ লাখ ২৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় ও ৩ হাজার ৬১৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান এবং ৯ হাজার ৯১৯টি যানবাহন ডাম্পিং স্টেশনে পাঠানো হয়েছে।
বিমানবন্দর-কমলাপুর পাতাল রেল হচ্ছে: একই সংসদ সদস্যের প্রশ্নে মন্ত্রী জানান, বিমানবন্দর-বিমানবন্দর টার্মিনাল ৩- খিলক্ষেত-যমুনা ফিউচার পার্ক-নতুন বাজার-উত্তর বাড্ডা-বাড্ডা-হাতিরঝিল-রামপুরা-মালিবাগ-রাজারবাগ-কমলাপুর— এই রুটের মোট দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার। এ রুটেই বাংলাদেশে প্রথম পাতাল রেল বা আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেল নির্মিত হতে যাচ্ছে।
১৬টি রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানের আবেদন: সংসদ সদস্য নাছিমুল আলম চৌধুরীর প্রশ্নের লিখিত জবাবে ওবায়দুল কাদের জানান, গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা-২০১৭ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। গেজেটটি প্রকাশিত হওয়ার পর গত বছরের ২২ এপ্রিল হতে এ পর্যন্ত মোট ১৬টি রাইড শেয়ারিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করেছে। নীতিমালার কিছু শর্ত প্রতিপালিত না হওয়ার কারণে এখন পর্যন্ত আবেদনকৃত রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট ইস্যু করা সম্ভব হয়নি।
মহাসড়কে অবৈধ দোকান-পাট অপসারণ: সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের জানান, সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের আওতাধীন দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে পাকা সড়ক সংলগ্ন কিছু অব্যবহূত ভূমিতে অসাধু ব্যক্তিবর্গ দোকানপাট বা বাজার তৈরি করেছেন। এগুলো উদ্ধারে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।