এইডস রোগের কোনো ঔষধ বা প্রতিষেধক এখনো বের করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। তবে অসম্ভব বিষয়কে সম্ভব করা হয়েছে লন্ডনের এক রোগীর ক্ষেত্রে। ২০০৩ সাল থেকে তার শরীরে এইচআইভি জীবাণুর সংক্রমণ ঘটেছিল। কেবল এইডসই নয়, ক্যান্সারও ছিল শরীরে। মৃত্যু অনিবার্য জেনেও ক্যান্সারের চিকিত্সা করাতে শুরু করেন তিনি। নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ নিয়ে দ্বিতীয় রোগীর এইচআইভিমুক্ত হওয়ার কথা জানা গেল। খবর সিএনএনের
গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে চিকিত্সাবিষয়ক এক সম্মেলনে সাফল্যের তথ্য উপস্থাপন করার কথা। রোগীর অনুরোধে তার পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। ২০১২ সাল থেকে শুরু হয় চিকিত্সা। ২০১৬ সালে ক্যান্সারের চিকিত্সার জন্য বোন ম্যারো সেল ট্র্যান্সপ্ল্যান্ট করাতে রাজি হন এইচআইভি আক্রান্ত রোগী। সে সময় এমন এক ব্যক্তির কাছ থেকে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করানো হয় যার শরীরে এইচআইভির কোনো জীবাণু নেই এবং সেই ব্যক্তি জিনগতভাবে এইচআইভি জীবাণুর প্রতিরোধ গড়তে পারেন। সেই বোন ম্যারো সেন ট্রান্সপ্লান্টের পরেই চিকিত্সকরা দেখেন রোগীর শরীরে রোগ প্রতিরোধক শক্তির পরিবর্তন ঘটছে। প্রায় ১৮ মাস ধরে ওই রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখার পর চিকিত্সকরা দেখেন, তার শরীরে এইচআইভি জীবাণুর কোনো অস্তিত্বই পাওয়া যাচ্ছে না। চিকিত্সক দলের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী অধ্যাপক রবীন্দ্র গুপ্তা জানান, রোগীর দেহ এখন ভাইরাসমুক্ত। তিনি জানান, এ ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে বিজ্ঞানীরা একদিন এইডস নির্মূল করতে পারবেন। তবে এই সাফল্যের মানে এই নয় যে এইচআইভি থেকে আরোগ্য লাভের চিকিত্সাপদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে। বিশ্বে এখন হিউম্যান ইমিউনো ডিফেসিয়েন্সি ভাইরাসে (এইচআইভি) আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ৭০ লাখ। উল্লেখ্য, ১২ বছর আগে ২০০৭ সালে একইভাবে বোন ম্যারো সেল ট্রান্সপ্লান্টের মাধ্যমেই এইচআইভি মুক্ত হয়েছিলেন টিমোথি রে ব্রাউন নামে এক মার্কিনি। জার্মানির বার্লিনে চিকিত্সা করিয়ে এইচআইভিমুক্ত হয়েছিলেন তিনি।