রাজধানীর বাড্ডার আদর্শ নগরে তিন খুনের ঘটনায় আরো দুইজনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটককৃতদের মধ্যে একজন যুবলীগ এবং অপরজন যুবলীগ নেতা।
রবিবার ভোরে তাদের আটক করার পর নাম প্রকাশ করতে চায়নি ডিবি। এর আগে শনিবার গোয়েন্দা পুলিশ চাঞ্চল্যকর তিন খুনের ঘটনায় যুবলীগ নেতা ফারুক মিলনকে আটক করে। তাকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
এছাড়া গোয়েন্দা পুলিশ আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ঐ এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সদ্য প্রয়াত বাউল সুমনের স্ত্রী আফরোজা আক্তার স্মৃতি ও সন্দেহভাজন কিলার ছাত্রলীগ নেতা জুয়েলের বাবাকে শর্ত সাপেক্ষে ছেড়ে দিয়েছে। এদিকে তিন খুনের ঘটনায় শনিবার রাতে বাড্ডা থানায় মামলা করেছেন নিহত স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মাহবুবুর রহমান গামার বাবা মতিউর রহমান। মামলায় ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামী করা হয়েছে।
অন্যদিকে, একই ঘটনায় নিহত আওয়ামী লীগ নেতা শামসুদ্দিন মোল্লার পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করতে গেলেও তা নেয়া হয়নি বলে পরিবারটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। নিহত শামসুদ্দিন মোল্লার ভগ্নিপতি পলাশ অভিযোগ করেছেন, হত্যার ঘটনায় সাত জনের জড়িত থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে রবিবার রাতে মামলা করতে গেলে তাদেরকে প্রায় ৬ ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়।
তবে বাড্ডা থানার ওসি আব্দুল জলিল বলেন, একই ঘটনায় দুইটি মামলা রেকর্ড করার কোনো বিধান নেই। তবে তাদের লিখিত অভিযোগটি মামলার সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ ঐ অভিযোগটিও তদন্ত করবে। তিনি বলেন, ঐ অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে কয়েকজন পুলিশের সন্দেহ এবং নজরদারির মধ্যে রয়েছে।
শামসুদ্দিন মোল্লার পরিবারের দেয়া অভিযোগে বাড্ডা থানা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক জুয়েল এবং সোহেল ছাড়াও যুবলীগ নেতা সোহেল রানা ও বিজয়সহ সাত জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এরা বাউল সুমনের সহযোগী এবং এলাকায় ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণসহ নানা অপকর্ম করত।
চাঞ্চল্যকর তিন খুনের ঘটনাটি বাড্ডা থানা পুলিশের পাশাপশি র্যাব ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ছায়া তদন্ত করছে। স্পর্শকাতর হওয়ায় তিন খুনের মামলাটি যে কোনো মুহুর্তে তদন্তের জন্য মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে স্থানান্তর করা হবে বলে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাতে বাড্ডার আদর্শনগর পানির পাম্প এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক শামসুদ্দিন মোল্লা, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মাহবুবুর রহমান গামা ও উত্তর বাড্ডার একটি হাসপাতালের ম্যানেজার ফিরোজ আহমেদ ওরফে মানিক।