কুষ্টিয়ায় সরকারি দলের বিবদমান দুই গ্রুপের সংঘর্ষে যুবলীগ কর্মী সবুজ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় র্যাব ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে দুটি শটগান ও গুলি। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল খালেককে গতকাল রবিবার দুপুরে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
নিহত সবুজের বড় ভাই আরিফ হোসেন বাদী হয়ে গতকাল দুপুরে কুষ্টিয়া মডেল থানায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান লাবু, সাধারণ সম্পাদক শেখ সাজ্জাদ হোসেন সবুজসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা সূত্র জানায়, সংঘর্ষ চলাকালে প্রকাশ্যে অস্ত্র দিয়ে গুলি ছোড়া ব্যক্তিকে ভিডিও ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করা হয়েছে। অস্ত্রধারী ওই ব্যক্তি পুলিশের চাকরিচ্যুত এএসআই আনিসুর রহমান। ঢাকার পল্লবী থানায় কর্মরত থাকাকালে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য আত্মসাত্ করার ঘটনায় তার চাকরি যায়। তিনি কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (বহিষ্কৃত) মোমিনুর রহমান মোমিজের বেয়াই বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। পুলিশ ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ সাজ্জাদ হোসেনের থানাপড়াস্থ বাড়ি ঘেরাও করে পুলিশ তার বাড়ি থেকে লাইসেন্সকৃত একটি শটগান, ৪৬ রাউন্ড শটগানের গুলি ও ৬৪ রাউন্ড পিস্তলের গুলি জব্দ করেছে। তবে অভিযান পরিচালনার সময় সবুজ বাড়িতে না থাকায় পুলিশ তাকে আটক করতে পারেনি।
অন্যদিকে র্যাব-১২ কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (বহিষ্কৃত) মোমিনুর রহমান মোমিজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোস্তাফিজুর রহমান মধুকে (৩৫) একটি বিদেশি শটগান ও ১৬ রাউন্ড শটগানের গুলিসহ গ্রেফতার করেছে। সে শহরের হাউজিং এস্টেট এলাকার মিজানুর রহমান ভূইয়ার ছেলে। এই ঘটনায় পুলিশ গতকাল পর্যন্ত দুজনকে গ্রেফতার করেছে। তবে তাদের নাম প্রকাশ করেনি।
কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (বহিষ্কৃত) মোমিনুর রহমান মোমিজের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের দায়ে আদালতে মামলা হয় এবং তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। অতিসম্প্রতি তিনি ওই মামলায় আদালত থেকে খালাস পান। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ সাজ্জাদ হোসেন ও মোমিজ আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে আর্থিক ফায়দা লুটে ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী ব্যক্তিতে পরিণত হন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে এরা দুজন। সরকার দলীয় ওই দুই নেতার আধিপত্য বিস্তার ও কোন্দলের কারণেই যুবলীগ কর্মী নিহত হয়েছে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে।
এদিকে কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি আব্দুল খালেককে প্রত্যাহার করে খুলনা রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে। রবিবার সকালে খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি একরামুল হাবিব কুষ্টিয়ায় এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।