সরাইলে দুপক্ষের সংঘর্ষে চার পুলিশসহ আহত অর্ধশতাধিক

জেলার সরাইল উপজেলায় সালিশ সভায় দুপক্ষের সংঘর্ষে পুলিশের দুই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, দুই পুলিশসহ উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। এ সময় পুলিশ অর্ধশতাধিক রাউন্ড টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
 
জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট উপজেলা সদরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের স্কুল মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সৈয়দটুলা গ্রামের পশ্চিম পাড়া এবং গড়ের পাড় গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই বিরোধ মীমাংসার জন্য রবিবার সন্ধ্যায় উভয়পক্ষের লোকজন সৈয়দটুলা গ্রামের খেলার মাঠে সালিশ সভার আহ্বান করে। সেখানে কয়েক শতাধিক লোক উপস্থিত হয়। সালিশের শুরুতেই এক পক্ষ অপর পক্ষকে দায়ী করে বক্তব্য দেয়। এনিয়ে উভয়পক্ষের লোকজনের মধ্যে বাক্বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের লোকজন সালিশস্থল ত্যাগ করে মাঠের পাশের খাল ও সেতুর দুই প্রান্তে অবস্থান নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংর্ঘষে লিপ্ত হয়। এ সময় বেশ কিছু বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় এবং খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। সরাইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১৫ রাউন্ড টিয়ারশেল ও ৩৫ রাউন্ড শটগানের গুলি নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দেড় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলী আরশাদ, ওসি তদন্ত মো. আব্দুল হক ও দুই কনস্টেবল আহত হয়। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এছাড়া আহতরা গ্রেফতার আতঙ্কে উপজেলা সদর ও জেলা সদরের বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নেয়।
 
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলী আরশাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।