প্রথম সংবিধান ছাপানো মুদ্রণযন্ত্র জাদুঘরে হস্তান্তর

 
 
বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান ছাপানো মুদ্রণযন্ত্রটি জাতীয় জাদুঘরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমবার মুদ্রণযন্ত্রটি হস্তান্তর উপলক্ষে রাজধানীর বিজি প্রেসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘এটা একট‍া নিদর্শন, এটা বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ। এটা লোহা-লক্কড় হিসেবে বিক্রি করলে এর দাম হতো ৪/৫ হাজার টাকা। কিন্তু এটা জাদুঘরে সংরক্ষণ করায় তা এখন অমূল্য।’
 
সৈয়দ আশরাফ‍ুল ইসলাম বলেন, বৃটিশ মিউজিয়ামে অনেক চুরির মালামাল সংরক্ষিত রয়েছে। বাংলাদেশে থেকে চুরি হওয়া মালামালও সেখানে আছে। তারা মালামালগুলো সবার জন্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু আমাদের মিউজিয়াম স্বাধীন জাতির জন্য অপ্রতুল।’
 
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশারাফুল ইসলাম। ছিলেন বিশেষ অতিথি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম আক্‌তারী মমতাজ, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী। মুদ্রণ যন্ত্রটিতে বাংলাদেশের সংবিধান ছাপানো কর্মীদের অন্যতম মো. আবু সাঈদও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় জাদুঘরের পক্ষে মহা-পরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের পক্ষে মহা-পরিচালক এ কে এম মঞ্জুরুল হক স্বাক্ষর করেন।

বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান ছাপানো মুদ্রণযন্ত্রটি আনা হয় ১৯৫২ সালে, এর কার্যকারিতা শেষ হয় ১৯৮৬ সালে। ‘ক্রাবট্রি ডাবল ডেমি টু কালার অফসেট প্রেস’ নামে এই মুদ্রণযন্ত্রে ছাপানো প্রথম সংবিধানের অলঙ্করণ করেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন। তার সহযোগী হিসেবে ছিলেন শিল্পী হাশেম খান। হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, এই মুদ্রণযন্ত্রটি ইতিহাসের অংশ, এভাবে ইতিহাস নির্মিত হয়। এটার দাম ছিল ৭৪ হাজার ৮৪০ টাকা ৪৩ পয়সা। আলোচনাকালে সংস্কৃতিমন্ত্রী আরো জানান, কুষ্টিয়ায় কাঙাল হরিনাথের বাড়িতে একটি জাদুঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।