ডেলিভারি বা সিজার করার অনুমোদন না থাকলেও জয়পুরহাট মেরী স্টোপস ক্লিনিকে সিজার করার পর এক মায়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ রবিবার ক্লিনিক্যাল সাইড বন্ধ করে দিয়েছে।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, শারমিন আকতার (২৮) নামে এক প্রসূতি মাকে গত ১১ আগষ্ট মেরী স্টোপস ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ওই রাতেই সিজার করে সন্তান প্রসবের পর মা শারমিন আকতারের জ্বর না কমলে জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। জেলা হাসপাতালে ভর্তির পর রোগীর অবস্থার অবনতি হওয়ায় বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতারে রেফার্ড করা হয়। পরিবারের লোকজন বগুড়া নিয়ে গেলেও সামর্থ না থাকায় পুনরায় রোগীকে ফিরে এনে ১৫ আগষ্ট বিকালে জয়পুরহাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ আগষ্ট রাত সোয় ৯টায় শারমিন আকতার মারা যায়। বিষয়টি জানতে পেরে সিভিল সার্জন ডা: এস এম আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য বিভাগীয় একটি টীম মেরী স্টোপস ক্লিনিক পরিদর্শন করেন। এ সময় গাইনী কনসালটেন্ট ডা: নাসিমা আকতার মীনা সিভিল সার্জনের সঙ্গে ছিলেন। পরিদর্শক দল দেখতে পান ফ্যামিলি প্ল্যানিং বিষয়ে কাজ করার সরকারী অনুমোদন থাকলেও ডেলীভারি বা সিজার করার কোন সরকারী অনুমোদন নাই। তাৎক্ষনিকভাবে সিভিল সার্জন অফিস থেকে জয়পুরহাট মেরী স্টোপস ক্লিনিকে নরমাল ডেলীভারী ও সিজার করা বন্ধ ঘোষনা করে একটি নির্দেশনা পত্র জারী করা হয়েছে বলে জানান, সিভিল সার্জন ডা: এস এম আব্দুল জলিল।
এ ব্যাপারে জয়পুরহাট মেরী স্টোপস ক্লিনিকের ম্যানেজার ফিরোজ আকতার বলেন, ক্লিনিক্যাল সাইড (ডেলিভারি ও সিজার করার) অনুমোদন চেয়ে সিভিল সার্জন অফিসে কাগজ পত্র জমা দেয়া হয়েছে। কিন্তু অনুমোদন পত্র এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। ডেলিভারি বা সিজারের অনুমোদনহীন মেরী স্টোপস ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে জন্ম নেয়া শিশুটি পৃথিবীর আলো দেখলেও মমতাময়ী মায়ের মুখ দেখার সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হলো।