বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশের প্রতি জেলায় স্বায়ত্ত্বশাসিত সরকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, এখন আমরা যদি প্রতি জেলায় স্বায়ত্ত্বশাসিত সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারি তাহলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবগত রয়েছেন। তার সঙ্গে এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আমার কথা হয়েছে।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এবং ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও জেলা সরকারে বিশ্বাসী ছিলেন। ১৯৭২ সালে তিনি আমাকে দুটি বিষয়ের ওপর প্রতিবেদন তৈরির দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এর একটি হচ্ছে, দেশে তখন যে ৬০টি সাব-ডিভিশন ছিল সেগুলোকে কীভাবে জেলায় উন্নীত করা যায়। এর জন্য কত ব্যয় হবে, প্রশাসনিক দায়িত্ব কীভাবে বন্টন করতে হবে। দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে, ওই ৬০ জেলা যাতে নিজস্ব শক্তিতে চলতে পারে এবং একই সঙ্গে ৬০টি অংশ যেন একটি রাষ্ট্র হিসেবে কাজ করতে পারে সেই সংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরি করতে বলেছিলেন।
তিনি বলেন, খুব অল্প বয়স থেকেই বঙ্গবন্ধু অসম্ভব সাহসী ছিলেন। যা মুখে আসে তা-ই অকপটে বলে ফেলতেন। এতে কে কী মনে করলো সেই চিন্তা কখনো তার মত প্রকাশে বাধা হয়ে ওঠেনি। এটা তার স্পষ্টবাদীতার পরিচয়। সমাজে যারা তেমন বিশেষ অবস্থাসম্পন্ন নয় তাদের প্রতি তার বিশেষ টান ছিল। তিনি মনে করতেন যে, সকলকেই সাহায্য করা উচিত। তিনি বিশ্বাস করতেন সকলেই সমান এবং সকলেরই সমান সুযোগ-সুবিধা পাওয়া উচিত। অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে যারা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বলেন তাদের সঙ্গে আমি দ্বিমত পোষণ করি। বঙ্গবন্ধু ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি।
এ সময় তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়ন হলেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আর শ্রেণিবিভেদ থাকবে না। তখন সবাই হবেন সরকারি কর্মকর্তা। এজন্য বেতন স্কেল থেকে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণী বিলুপ্ত করে ১ থেকে ২০টি গ্রেড নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জনগণের সেবক হিসেবে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার আহ্বানও জানান তিনি।
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ, জনপ্রশাসন সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. এম আসলাম আলম বক্তব্য রাখেন।