অবশেষে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসন ও পুলিশ নড়েচড়ে বসেছে। পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন ও জেলা প্রশাসনের সম্মতিতে সরকার দলীয় আট নেতার ১০ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশংকায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ বেলাল হোসেন গতকাল সোমবার ওই নেতাদের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি লাইসেন্স বাতিল হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রগুলো জব্দ করারও নির্দেশনা দেয়া হয়।
জেলা প্রশাসনসূত্র জানায়, শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (বহিষ্কৃত) মোমিনুর রহমান মোমিজের দুইটি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ সাজ্জাদ হোসেন সবুজের দুইটি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান লাবু’র একটি ও যুবলীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান মধুর একটি, মিরপুর উপজেলা পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ফেরদৌস ওয়াহেদ জোয়ার্দ্দারের একটি, উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দারের একটি, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আবুল কাশেম জোয়ার্দ্দারের একটি ও আওয়ামী লীগ নেতা হীরক জোয়ার্দ্দারের একটি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিম এসব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের দুই মেয়াদে কুষ্টিয়া জেলায় রাজনৈতিক বিবেচনায় অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়া হয়। পুলিশের খাতায় আসামি ও সন্ত্রাসী হিসাবে তালিকাভুক্তরাও লাইসেন্স পেয়েছেন।
গত ১৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ক্ষমতাসীন দলের বিবদমান দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় গুলিবর্ষণ ও যুবলীগ কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনার পর অনেক নেতার আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নেয়া হয়। পুলিশ সুপারের দফতর থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে কুষ্টিয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান লাবু, সাধারণ সম্পাদক শেখ সাজ্জাদ হোসেন সবুজ, কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোমিনুর রহমান মোমিজ ও তার অন্যতম সহযোগী মোস্তাফিজুর রহমান মধুসহ বেশ কয়েক জন আওয়ামী লীগ নেতার অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হয়। এই সুপারিশের ভিত্তিতে ওই আওয়ামী লীগ নেতাদের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয় বলে জেলা প্রশাসনসূত্রে জানা যায়। পুলিশ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লাইসেন্স বাতিল হওয়া একটি অস্ত্র জব্দ করেছে। বাকি অস্ত্রগুলো জব্দ করার চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ জানায়।
পুলিশসূত্র আরো জানায়, গত শনিবার জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচিতে কুষ্টিয়ার মজমপুর এলাকায় চাকরিচ্যুত এএসআই আনিসুর রহমান যে অস্ত্র দিয়ে গুলি ছুঁড়েছিল সেটি ছিল আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা মোমিনুর রহমান মোমিজের লাইসেন্সকৃত শটগান। চাকরিচ্যুত ওই কর্মকর্তাকে পুলিশ এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি। পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিম জানান, ঘটনার পর থেকে আনিস আত্মগোপনে রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চলছে।