গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন উদ্যোগ

তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দেশের স্থলভাগে নতুন করে ভূ-কম্পন জরিপ শুরু করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। চলতি বছর থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে দ্বি-মাত্রিক ও ত্রি-মাত্রিক জরিপ পরিচালনা করবে কোম্পানিটি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জরিপ থেকে নতুন গ্যাস ক্ষেত্রের সন্ধান মিলবে। দেশের বিদ্যমান গ্যাসের মজুদ ক্রমশ হ্রাস এবং জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

 
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গ্যাসের আধার খুঁজে বের করতে ২০২১ সাল পর্যন্ত ১৭টি স্থানে দ্বি-মাত্রিক ভূ-কম্পন (টুডি সিসমিক) জরিপ পরিচালনা করবে রাষ্ট্রের একমাত্র তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন কোম্পানি বাপেক্স। প্রতি বছর এক হাজার ৪০০ লাইন কিলোমিটার (এলকিমি) করে মোট নয় হাজার ৮০০ এলকিমি এলাকায় এ জরিপ চলবে। একইসাথে ১১টি গ্যাসাধার ভূ-গঠনে নতুন কূপ খননের স্থান নির্ধারণে ত্রি-মাত্রিক (থ্রিডি) ভূ-কম্পন জরিপ পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দুই হাজার ৯৪০ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এ কার্যক্রম চলবে।
 
এ প্রসঙ্গে বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আতিকুজ্জামান বলেন, দেশের জ্বালানি চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। তাই জ্বালানির জোগানও বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যে ২০২১ সাল পর্যন্ত লক্ষ্য নির্ধারণ করে একটি সুসংগঠিত পরিকল্পনা করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে পৃথক কারিগরি কমিটিও গঠন করা হচ্ছে।
 
তিনি বলেন, দ্বি-মাত্রিক ও ত্রি-মাত্রিক ভূ-কম্পন জরিপগুলো পরিকল্পনামত সম্পন্ন করা হলে নতুন গ্যাসাধার আবিষ্কারের পাশাপাশি বিদ্যমান ক্ষেত্রগুলোর পার্শ্ববর্তী এলাকায় অনেক বেশি পরিমাণ গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
 
দ্বি-মাত্রিক জরিপ এলাকা ও সময়সীমা
 
চলতি বছরে নেত্রকোনার মদনে, হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে, বাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর, জামালপুরের মেলান্দহে এবং মানিকগঞ্জের সিংগাইরে (গ্যাস ব্লক নম্বর ৩বি, ৬বি, ৮, ৯, ১১ ও ১২) জরিপ পরিচালনা করা হবে। ইতিমধ্যে নেত্রকোনায় জরিপের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। ২০১৬ সালে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ দক্ষিণ, বেতচিয়া, মৌলভীবাজারের হারারগঞ্জ, হবিগঞ্জের মাধবপুর, সুনামগঞ্জের পাথরিয়া এবং দুপিটিলায় (ব্লক ১২, ১৩, ১৪) জরিপ পরিচালনা করা হবে। ২০১৭ সালে ৬বি, ৯ ও ১০ ব্লকের অন্তর্গত মুলাদি, দাউদকান্দি ও চাঁদপুরে; ২০১৮ সালে ১৫নং ব্লকের সীতাকুণ্ড, সেমুতাং ও লাম্বাঘনায়; ২০১৯ সালে ৫, ৬এ, ও ৬বি ব্লকভুক্ত গোপালগঞ্জ, খুলনার দাকোপ, পাইকগাছা, ডুমুরিয়া এবং মাদারীপুরে; ২০২০ সালে ৩ ও ৯নং ব্লকভুক্ত ঘাটাইল, গোপালপুর, গাজীপুর, ভালুকা, বাসাইল, কালিহাতি ও সখিপুরে এবং ২০২১ সালে ৮ ও ৯নং ব্লকভুক্ত ফুলপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, নান্দাইল, দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, পূর্বধলায় দ্বি-মাত্রিক ভূ-কম্পন জরিপ পরিচালনা করা হবে।
 
ত্রি-মাত্রিক জরিপ এলাকা ও সময়সীমা
 
নতুন কূপ খননের স্থান শনাক্তের লক্ষ্যে এ বছরের মধ্যে ত্রি-মাত্রিক জরিপ পরিচালনা করা হবে কুমিল্লার শ্রীকাইল এবং নোয়াখালীর সুন্দলপুর গ্যাস ক্ষেত্রে। এ দুই ক্ষেত্রের  সন্নিহিত ৫৯০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় জরিপ পরিচালিত হবে। ২০১৬ সালে হবিগঞ্জ ভূ-গঠনের ২৫০ বর্গ কিলোমিটার, ২০১৭ সালে ফেঞ্চুগঞ্জ ও সেমুতাংয়ের ৫৫০ বর্গ কিলোমিটার, ২০১৮ সালে নরসিংদী ও রুপগঞ্জ ভূগঠনের ৪০০ বর্গকিলোমিটার, ২০১৯ সালে ১৪নং ব্লকভুক্ত বিয়ানীবাজারের ২০০ বর্গ কিলোমিটার, ২০২০ সালে মুলাদি ও পাথরিয়ার ২০০ বর্গ কিলোমিটার এবং ২০২১ সালে মোবারকপুর ও মেঘনা গ্যাস ক্ষেত্রের ৫০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ত্রি-মাত্রিক জরিপ পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাপেক্স।
 

পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রমে গতি আনতে সরকারের তাগিদ রয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও বছরভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে গ্যাস ক্ষেত্র ও গ্যাসকূপ খননের উপযোগী স্থান অনুসন্ধানের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। দ্বি-মাত্রিক ভূ-কম্পন জরিপের মাধ্যমে গ্যাস উত্তোলনের জন্য নতুন ভূ-গঠন শনাক্ত এবং ত্রি-মাত্রিক জরিপের মাধ্যমে জরিপকৃত এলাকায় নতুন কূপ খননের স্থান শনাক্ত করা হবে।