চলতি আমন মৌসুমে কৃষকদের সার সরবরাহ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে উখিয়ার ১০ জন সার ডিলারকে বিসিআইসিয়ের দেয়া ইউরিয়া সারের সিংহভাগ মিয়ানমারে পাচার হয়ে যাচ্ছে। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্বরত বর্ডার গার্ড বিজিবির সদস্যরা বিভিন্ন সময় উদ্ধার করছে। তবে স্থানীয় পাইকারি সার সরবরাহ প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা সার পাচারের বিষয়টি বার বার অস্বীকার করছে।
উপজেলা কৃষি অফিসে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, চলতি মৌসুমে আমন চাষাবাদের জন্য ৫২০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার বরাদ্ধ পাওয়া গেছে। বরাদ্ধকৃত এসব সার স্থানীয় ১০ জন পাইকারি ডিলারদের সরবরাহ দেয়া হয়েছে।
সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে সার পাচার অব্যাহত রয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী গ্রামবাসীর অভিযোগ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সীমান্ত এলাকা ডেইলপাড়া গ্রামের বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, স্থানীয় কয়েকজন চিহ্নিত পাচারকারীর মাধ্যমে প্রতিনিয়ত মিয়ানমারে সার পাচার হচ্ছে। উখিয়ার পাইকারি সার ডিলারদের নিকট থেকে এসব সার সরবরাহ নেওয়া হচ্ছে বলে দারি করে তারা জানান, এর আগে গ্রামবাসী মিয়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সার উদ্ধার করে জমিতে ছিটিয়ে দিয়েছে।
জানতে চাওয়া হলে সার ডিলার নজির আহমদের ছেলে বখতেয়ার আহমদ জানান, কৃষকের বাইরে কারো কাছে সার বিক্রি করা হচ্ছে না।
সীমান্তে ঘুমধুম বিজিবির নায়েব সুবেদার আতিয়ার রহমান জানান, মিয়ানমারে পাচারকালে তিন বস্তা ইউরিয়া সার উদ্ধার করা হয়েছে। একইভাবে পালংখালী সীমান্তের আঞ্জুমানপাড়া বিওপির নায়েব সুবেদার মোঃ মোসা জানান, মিয়ানমারে পাচারকালে দুই বস্তা ইউরিয়া সার উদ্ধার করা হয়েছে।
সচেতন মহলের দাবি, বিজিবি সদস্যরা টহল দেয়ার সময় সামনে পড়ে গেলে সারসহ বিভিন্ন চোরাই পণ্য উদ্ধার করার কথা সঠিক। তবে তাদের অগোচরে অহরহ ইউরিয়া সারসহ নিত্যপণ্য মিয়ানমারে পাচার হয়ে যাচ্ছে।
পালংখালীর বেশ কয়েক জন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, স্থানীয় ডিলার কর্তৃক সরবরাহকৃত সিংহভাগ সার মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে কৃষি অফিসার সুমন শীল জানান, উখিয়া অফিসে যোগদান করার পর সাড়ে ৪০০ মেট্রিক টন সার বরাদ্ধ পেয়েছেএখন আমন মৌসুমের পিক আওয়ার। তাই সার পাচারের অভিযোগটি সঠিক নয়।