সাংবাদিক নির্যাতনের দায়ে জাতীয় পরিচয় ও নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি) উপ-প্রকল্প পরিচালক আব্দুল বারীকে অপসারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার ইসি সচিবালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
একই সঙ্গে সাংবাদিকদের কাজে বাধা ও লাঞ্ছনার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রকল্পের উপপরিচালক সৈয়দ মো. মুসাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভবনের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকা প্রকল্প কার্যালয়ে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে লাঞ্ছিত হন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদক জি এম মুস্তাফিজুল আলম ও ক্যামেরা পার্সন রিপু আহমেদ। এ সময় উপ-প্রকল্প পরিচালক আব্দুল বারীর কক্ষে নিয়ে দুই সাংবাদিককে মারধর, তাদের সঙ্গে থাকা ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয় ও মোমেরি কার্ড ছিনিয়ে নেয়া হয়। তার নির্দেশ পেয়ে প্রকল্পের আরো ১০ থেকে ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি সাংবাদিকদের বাধা ও মারধরের ঘটনায় অংশ নেয়।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন বিটের সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন এ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) এর পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিবকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে চিঠি দেয়া হয়।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, উপ-প্রকল্প পরিচালক আব্দুল বারীকে এনআইডি থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ওই কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার থেকে আর প্রকল্পে নেই। বুধবারই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আব্দুল বারীকে প্রত্যাহার করে উপযুক্ত একজন কর্মকর্তা দেয়ার জন্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এনআইডি উইংয়ে জন প্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রেষণে নিয়োগ পাওয়া আব্দুল বারী নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র স্মার্টকার্ড প্রদান সংক্রান্ত প্রকল্প আইডিইএর উপ প্রকল্প পরিচালক। তার বিরুদ্ধে জাতীয় পরিচয়পত্র বাণিজ্য করার অভিযোগ রয়েছে।
শেরে বাংলানগরস্থ ইসি কার্যালয়ে ব্রিফিংকালে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সালেহউদ্দিন, জনসংযোগ পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।