নিজের সন্তানকে কুপিয়ে হত্যা

চিতলমারীতে স্বামী-স্ত্রীর বিরোধে দেড় বছরের ঘুমন্ত শিশুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রবিবার রাত সাড়ে ১১টায় চিংগুড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার সকালে হত্যার অভিযোগে মা নাজমাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।  বাবা মিরাজ শেখকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয়া হয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্ত মাখা ছুরি ও শিশুটির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 
 
পুলিশ ও এলাকাবাসি জানায়, মিরাজ শেখের সঙ্গে প্রতিবেশি নাজমার  ৬-৭বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ দেখা দেয়। এক পর্যায়ে নাজমা তার স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এতে তাদের মধ্যে বিরোধ আরো তীব্র আকার ধারণ করে। আর এরই রেশ ধরে রবিবার রাতে শিশুকে হত্যা করা হয়। লাশের বুকে ও পেটে দুটি কোপের চি‎হ্ন রয়েছে।
এ হত্যাকাণ্ডে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। নাজমা তার স্বামীকে এ হত্যার জন্য দায়ি  করেছেন। তার স্বামী মিরাজের দাবি স্ত্রী নাজমা তাকে ফাঁসানোর জন্য এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে সন্দেহের তীর এখন নাজমার দিকে।
 
প্রতিবেশিরা জানায়, রাতে স্বামী-স্ত্রী দু’জনে পাশাপাশি খাটে ঘুমিয়ে ছিল। এ সময় শিশু মীমরা তার মায়ের কাছে ছিল। রাত সাড়ে এগারোটার দিকে নাজমা পাশের বাড়িতে ছুটে গিয়ে খুন হয়েছে বলে চিৎকার করে। পরে খবর পেয়ে থানা পুলিশ নাজমা ও তার স্বামীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে পরদিন সকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম পরিদর্শন করেছেন। 
 
চিতলমারী থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধূরি বলেন, ‌'শিশু মীমরা হত্যাকাণ্ডে তার মা-বাবাকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।'