বিমানবাহিনীতে চাকরি দেয়ার নাম করে প্রতারণার অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিমান বাহিনীর দুই সাবেক সদস্যসহ চারজনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। সোমবার দিবাগত রাতে পুলিশ এ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে এবং প্রতারণার শিকার ৪৪ জনকে উদ্ধার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার মো. সিদ্দিকুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত সিভিল স্টাফ মো. জহিরুল ইসলাম এবং তাদের সহযোগী মো. স্বপন হোসেন ও মো. এনামুল হক লিটন। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন কলেজের প্রভাষক, হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা সরকারী গেজেটেড কর্মকর্তা, সরকারি ডাক্তার, ইউপি চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের ৫০টি সিল, ৪৬টি এক শ টাকার ননজুডিসিয়াল স্টাম্প ও নিকাহনামা, ৬০টি এমওডিসি (মিনিস্ট্রি অব ডিফেন্স কনস্টেবল) পদে চাকরির আবেদন ফরম ও বিভিন্ন প্রার্থীর ৫২টি মেডিক্যাল রিপোর্টের নথি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়—প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মো. জহিরুল ইসলাম ও মো. সিদ্দিকুর রহমান জানায়, তারা বিমান বাহিনীর অফিসার পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন জেলা হতে বেকার যুবকদের চাকরির প্রলোভন দেখায়।
এরই মধ্যে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এমওডিসি ও সৈনিক পদে ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরি দেয়ার লোভ দেখিয়ে তারা প্রার্থী মো. সাইদুর রহমানসহ ৪৫ জনকে ঢাকায় নিয়ে এসে পল্লবী থানার মিরপুর ডিওএইচএস এর ৯নং রোডের একটি বাড়িতে আটকে রাখে।
প্রতারক চক্র তাদের প্রত্যেকের নিকট হতে এক শত টাকার ননজুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে ও পৃথক পৃথক নিকাহনামায় (কাবিননামায়) স্বাক্ষর নেয়। প্রতারকচক্র পরবর্তীতে চাহিদা মতো আদায়ের জন্য এ স্বাক্ষর নিয়ে রেখেছিল। প্রতারক চক্রটি টাকা আদায়ের জন্য অন্য কোনো নারীর দ্বারা নারী নির্যাতনের মিথ্যা মামলা রুজু করে বিপাকে ফেলার জন্য এ স্বাক্ষর নিয়েছিল বলে পুলিশ জানায়।