মাঠ পর্যায়ে পুলিশ প্রশাসন অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইয়াবা ব্যবসায়ী খাই খাই পার্টির দাপটে অসহায়। এ সব ব্যবসায়ী ও খাই খাই পার্টির নেতাকর্মীর ইশারায় চলে পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়োগ বদলি। এ সব ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী ও খাই খাই পাতি নেতাকর্মী অধিকাংশ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নামধারী নেতাকর্মী। অনেকে বিএনপি ও জামায়াত থেকে যোগদানকারী নেতাকর্মী রয়েছে। এ সব ইয়াবা ব্যবসায়ী ও খাই খাই পার্টির নেতা পাতি নেতা কর্মীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের একশ্রেণির তথাকথিত নেতা। আর ইয়াবা ব্যবসায়ীদের লাখ লাখ টাকা আয়ের ভাগ ঐ সব নেতাদের পকেটে যায় নিয়মিত। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কাছে সব সময় থাকে লাখ লাখ টাকা। রাজধানী থেকে গ্রামাঞ্চলের ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত প্রায় ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে রয়েছে ইয়াবা ব্যবসায়ী নেটওয়ার্ক। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার অনুসন্ধানে বের হয়ে আসছে সর্বনাশা ইয়াবার এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইয়াবা পরিস্থিতি বর্তমান এমন যে, শিক্ষিত তরুণ সমাজ এটম বোমার উপর বসবাস করছে। এ সমাজে ইয়াবার ছোবল এমনভাবে প্রবেশ করেছে যে, এ পরিস্থিতি তরুণ সমাজ রক্ষা করাও দুঃসাধ্য। এই পরিবেশে তৈরি হচ্ছে ইয়াবা খোর অর্থাত্ মাদকাসক্ত নেতাকর্মী। তাদের মনমানসিকতা এমন হয়ে উঠছে, তারা যে দলীয় নেতাকর্মী এর ধোয়াক্কা করে না। এদের শুধু “টাকা টাকা” আর খাই খাই ভাব। দখলবাজি, টেন্ডারবাজিসহ সকল অপকর্ম করে যাচ্ছে। এলাকার কিংবা ওয়ার্ড পর্যায় ঘুপরি ঘর তৈরি করে সাজায় দলীয় অফিস। এ অফিসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ছবি পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখে। ঐ সব অফিসে পুরিশ মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও গ্রেফতার করে। ইয়াবা ব্যবসায়ী নেতাকর্মী স্থানীয় নেতা কিংবা এমপির কাছে নালিশ করে যে, সংশিষ্ট থানার ওসি ও এসআই প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর ছবি ভেঙে দিয়েছে। নেতা কোন তদন্ত ছাড়া ইয়াবা ব্যবসায়ী আর খাই খাই পার্টির পাতি নেতাকর্মীর কথা সংশিষ্ট থানার ওসি ও এসআইকে শীর্ষ প্রশাসনের কাছে বলে বদলি করে ফেলেন। অধিকাংশ থানায় এসব ইয়াবা ব্যবসায়ী ও খাই খাই পার্টির কথায় ঘন ঘন ওসি ও এসআই পর্যায়ের কর্মকর্তারা বদলি হয়ে থাকে। এর ফলে প্রভাব পড়ে মামলা তদন্ত কাজে। এলাকায় আইন-শৃংখলা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দেখা দেয় জটিলতা। অপরদিকে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনে সৃষ্টি হচ্ছে হতাশা। এক শ্রেণির পুলিশ কর্মকর্তা রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার লোভে জড়িয়ে পড়ছে সর্বনাশা ইয়াবা ব্যবসায়। এমন অনেক পুলিশ সদস্য ইয়াবা নিয়মিত খাচ্ছেন। কোন কোন এলাকায় এ দুই পরিস্থিতি এক হয়ে ইয়াবার স্বর্গরাজ্যে পরিনত। ঐ সব এলাকায় বাড়ছে নারী ধর্ষণ, শিশু ধর্ষণ, গণধর্ষণ, হত্যাসহ নানা বিকৃত ধরনের অপরাধ। ইয়াবা আসক্তরা কি ধরনের অপরাধ করছে তা নিয়ে তাদের মধ্যে কোন ধরনের অনুসূচনা নেই। ইয়াবায় আসক্ত মেধাবী ছাত্রী ঐশী তার পিতা পুলিশ ইন্সপেক্টর মাহফুজ ও মাকে হত্যা করেছেন। মনোরাগ বিজ্ঞানীরাও ইয়াবা আসক্তদের সম্পর্কে একই মতামত পোষণ করেছেন। জনস্বার্থে পুলিশ প্রশাসন এসব ইয়াবা ব্যবসায়ী ও খাই খাই পার্টির তত্পরতার ঊর্ধ্বে রাখা উচিত। স্বাধীনভাবে পুলিশ স্ব স্ব এলাকায় কার্যক্রম চললে আইন-শৃংখলা স্বাভাবিক থাকবে বলে বিশেষজ্ঞরা অভিমত পোষণ করেন।
পুলিশের আইজি একেএম শহীদুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে কিছু কিছু রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা থানায় এসে তদবির করে থাকেন। এ সব তদবির নিয়মের মধ্যে পড়লে কোন কোন ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়। অযৌক্তিক তদবির কোন অবস্থাতেই বিবেচনা করা হয় না।’ তিনি বলেন, পুলিশের ‘চেইন অব কমান্ডে’র বাইরে গিয়ে কিছু করা সম্ভব না। সন্ত্রাসীর কোন দল নেই। অপরাধী যেই হউক কোন অবস্থায় ছাড় দেয়া হবে না। পুলিশকে সকল কিছুর ঊর্ধ্বে থেকে নির্ভয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্বূ কর্তব্য পালনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।