দিনাজপুরের ফুলবাড়ি কয়লাখনি বিরোধী ট্রাজেডি দিবস আজ। ২০০৬ সালের এই দিনে ফুলবাড়ি কয়লাখনি বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে বিডিআর-পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন সুজাপুর গ্রামে ভ্যান চালক বাবলু রায় (৫০)। গুলিবিদ্ধ বাবলু রায় এখন পঙ্গুত্ব জীবন যাপন করছেন।
তার শরীরের অর্ধেক অংশ অবশ হয়ে গেছে। হারিয়ে গেছে তার কর্মক্ষমতা। স্ত্রীসহ তার ৩শিশু সন্তানের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে পড়ে রয়েছেন নিজ বাড়িতে।
২০০৬সালের ২৬আগস্টের স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে বাবলু রায় জানান, প্রতিদিনের মতো সেদিন আর ভ্যান বের করেননি তিনি। সকালে বাড়ি থেকে খাবার খেয়ে তেল-গ্যাস কমিটির এশিয়া এনার্জির অফিস ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নিতে বের হন। তখন তার স্ত্রী ৬মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা। বিকাল ৩টায় ফুলবাড়ি ঢাকা মোড় থেকে কয়লাখনি বিরোধী মিছিল বের হলে বাবলু রায় তাতে অংশ নেন। ছোট যমুনা নদীর ব্রীজের কাছে মিছিলটি আসতেই পুলিশ-বিডিআর একযোগে গুলি বর্ষণ শুরু করে। লোকজন এদিক ওদিক ছোটাছুটি করতে থাকে। হঠাৎ একটি গুলি বাবলুর পিঠে বিদ্ধ হয়। লুটিয়ে পড়েন রাস্তায়। এরপর আর কিছুই বলতে পারেন না তিনি।
আন্দোলনকারী এসএম নূরুজ্জামান জামান বলেন, গুলিবিদ্ধ বাবলু রায়কে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পিজি হাসপাতাল, ক্রমা সেন্টার ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে দীর্ঘ ১১মাস চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরেন। এখন হুইল চেয়ারই তার সার্বক্ষণিক সঙ্গী।
এরপর থেকে ২৬ আগস্টকে তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি ‘জাতীয় সম্পদ রক্ষা দিবস’ হিসেবে পালন করছে।পৌর মেয়র মানিক সরকারের নেতৃত্বে সম্মিলিত পেশাজীবী সংগঠন ‘ফুলবাড়ি শোক দিবস’ হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে।