নাব্য সংকট নিরসনে পদ্মা সেতুর ড্রেজার

শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি ফেরি সার্ভিস সাতদিন ধরে অচল

শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি ফেরি চলাচল টানা সাত দিন ধরে নাব্য সংকট ও তীব্রস্রোতে কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ। দু’পাড়ে এখনও পারাপারের অপেক্ষায় প্রায় ৩শ’ যান। 
 
এদিকে এই নৌরুট খুলে দিতে বৃহস্পতিবার থেকে পদ্মা সেতুর দু’টি বড় আকারের ড্রেজার দিয়ে পলি অপসারণের কাজ করার কথা রয়েছে। তবে এখনও শুরু হয়নি, চলছে প্রস্তুতি।
 
বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী (ড্রেজিং) মো. সুলতান উদ্দিন আহমেদ খান জানান, পুরো নৌ রুটে ২২ লাখ ঘন ফুট পলিমাটি অপসারণ করতে হবে। লৌহজং টার্নিংয়ে প্রায় ২/৩ লাখ পলি মাটি অপসারণ করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন এতে ৫/৭ দিনের মধ্যেই নাব্য সংকট সমাধান হবে।  
 
দেশের প্রধান এই ফেরি সার্ভিস  বহু পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ায় ব্যবসা বাণিজ্যে পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। বৃহস্পতিবার দু’প্রান্তে প্রায় ৩ শ’ যান আটকা ছিল। এগুলোর প্রায় সবই পণ্যবাহী ট্রাক। আর এর প্রায় দু’শই শিমুলিয়ায়। এই রুটে পারাপারের জন্য নতুন করে গাড়ি আসা বন্ধ প্রায়। তবে কাটা সার্ভিসে অনেকে যাতায়ত করছে। অর্থ্যাৎ বাস এক প্রান্তে নামিয়ে দেয়ার পর যাত্রীরা লঞ্চ বা স্পিডবোটে করে নদী পার হয়ে অপর প্রান্তে গিয়ে নির্ধারিত বাসে উঠছে। তবে পদ্মায় অস্বাভাবিক স্রোতের মধ্যে এই উত্তাল পদ্মায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরা লঞ্চ ও স্পিডবোটে পার হতে হচ্ছে। এখানে স্রোতের গতি প্রতি সেকেন্ডে ৫ মিটার। অর্থ্যাৎ কোন কিছু ফেলা হলে এক সেকেন্ডেই ১৫ ফুট দূরে চলে যাচ্ছে। তাই আগামী এক সপ্তাহ এই রুটে চলাচল না করার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট এক প্রকৌশলী ।
 
বিআইডব্লিউটিসির সহকারী ব্যবস্থাপক শেখর চন্দ্র রায়  জানান, ফেরি ‘কুসুমকলি’ ও ‘ক্যামেলিয়া’ নামের দু'টি কে-টাইপ ফেরি কোন রকম কাজ দিচ্ছে। সারাদিনে এই ফেরি দু’টি মাত্র প্রায় ৫টি ট্রিপ দিতে পারছে। যেখানে আগে দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০টি ট্রিপ হতো। আর বাকি ১৬টি ফেরি বসে আছে অলস। এদিকে নদীতে পানিও  বাড়ছে তলদেশে পলিও বাড়ছে। তাছাড়া অস্বাভাবিক  স্রোত এখানকার ফেরিগুলোর চলার মত ক্ষমতা সম্পন্ন নয়। 
 
প্রায় তিন সপ্তাহ সময় ধরে ফেরি চলাচল নানাভাবে ব্যহত হয়ে আসছে। নাব্য সংকট রোধে ড্রেজিং করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তীব্র স্রোতে ভরা বর্ষায় পলি পরে ভরাট হয়ে যাচ্ছে লৌহজং টার্নিং পয়েন্টের মুখ। স্বাভাবিক ফেরি চলার জন্য চ্যানেলে পানির গভীরতা প্রয়োজন সাড়ে ৭ ফুট। কিন্তু পানির গভীরতা এখন সর্বনিম্ন ৬ ফুটের নিচে নেমে এসেছে।
 
দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার শিমুলিয়ায় এখন আটকে পড়া ট্রাকের চালক ও হেলপারদের নানা বিড়ম্বনা চোখে পড়ছে। তারা ট্রাকেই দিনের পর দিন অতিবাহিত করছে। কেউ মসলা, কেউ সয়াবিন তেল, কেউ স্টেশানারি, কেউ রডসহ নানা মালামাল নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছে শিমুলিয়ায়। সঙ্গে থাকা টাকাও শেষ প্রায়। অনেকে বিকাশের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে টাকা আনছেন। মোবাইল  সচল রাখার জন্য আশপাশের দোকানগুলোতে ধর্না দিচ্ছে।